ফের মৃত্যু বামনেতার, আনিসকাণ্ডের প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, রেললাইনের ধারে উদ্ধার সৌমেনের রক্তাক্ত দেহ

রহস্যজনক মৃত্যু আরও এক বামনেতার আর এবারও স্থান সেই হাওড়া। গতকাল, সোমবার রাতে হাওড়ার আবাদা স্টেশনের কাছে রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার হয় সৌমেন কুণ্ডুর রক্তাক্ত দেহ। একদিকে যখন ছাত্রনেতা আনিস খানের হত্যাকাণ্ডের জেরে গোটা রাজ্য উত্তপ্ত, এই ঘটনায় অভিযুক্তরা এখনও অধরা, ঠিক এমন সময় আরও এক বামনেতার রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ছড়াল চাঞ্চল্য।

জানা গিয়েছে, এই সৌমেন কুণ্ডুর নেতৃত্বেই তাঁর এলাকায় আনিস হত্যাকাণ্ডে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবী জানিয়ে মিছিল করা হয়েছিল। আর এরপরই তাঁর এমন মৃত্যুর ঘটনা যে বেশ অস্বাভাবিক, তা বলাই বাহুল্য।

মৃত বাম নেতার নাম সৌমেন কুণ্ডু। বছর ৪২-এর সৌমেন হাওড়ার ৫৮ নম্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিপিএমের ছোট ভট্টাচার্য পাড়া শাখা সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না সৌমেনের।

এরপর গভীর রাতে আবাদা স্টেশনের কাছে রেল লাইনের ধার থেকে উদ্ধার হয় সৌমেনের রক্তাক্ত দেহ। দেহ উদ্ধার করে রেল পুলিশ। রাতেই রেল পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারকে ফোন করে তাঁর দেহ উদ্ধারের খবর জানানো হয়।

পরিবারের সদস্যদের কথায়, গতকাল, সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোন সৌমেন। বলে গিয়েছিলেন যে দুপুরে বাড়িতে খাবেন না। কিন্তু অনেক রাত পর্যন্তও তিনি না ফেরায় চ্যাটার্জীহাট থানায় পরিবারের তরফে নিখোঁজের অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু কোনও সহযোগিতা মেলেনি। এরপর হাওড়া সিটি পুলিশ কমিশনারের অফিসে ফোন করে সৌমেনের পরিবারের তরফে অনুরোধ করা হয় যাতে তাঁর ফোন ট্র্যাক করা হয় কারণ তাঁর ফোনে রিং হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি পুলিশ। এরপর লালবাজারে যোগাযোগ করেন তারা।

অনেক রাত পর্যন্ত সৌমেনের বাড়ি না ফেরার খবর পেয়ে সার্কুলার রোডে তাঁর বাড়িতে পৌঁছন এলাকার সিপিএম নেতা কর্মীরাা। দলের সাউথ ইস্ট এলাকা কমিটির সদস্য সন্দীপ কোলে বলেন যে সৌমেনের কোনও শত্রু ছিল না। তিনি দলের শাখা সম্পাদক ছিলেন। আনিস মৃত্যুর ঘটনার পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন সৌমেন। তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেও মানতে নারাজ তাঁর পরিবার। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হোক, দাবী পরিবারের।

এদিকে সৌমেনের দাদা দাবী করেছেন যে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ সৌমেনের মাথার পিছনের দিকে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ও তাঁর নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের ছবিও ধরা পড়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

RELATED Articles