বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ যেন বেড়েই চলেছে। আজ ভোটের নির্বাচনী সবাই নিজের বক্তব্য রাখতে রাজ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের দিনও রাজ্য ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে কটাক্ষ করে বলেছিলেন নন্দীগ্রামে এইবার হেরে যাবেন মমতা।
জবাব ফিরিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসও। টুইট করে বলা হয়েছিল নন্দীগ্রামে ঠিকই জিতবেন মমতা। মোদী যেনও তার বেনারসের গদি বাঁচাতে পারেন। কারণ এবার সেখানে লোকসভা নির্বাচনে লড়তে পারেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন- ‘গোড়ালির কাছে অ্যাঙ্কেল ভেঙে গেছে’, সেই পা দোলাচ্ছেন মমতা! দেখুন পর্দাফাঁস ভিডিও
আর এবার রাজ্যে এসে মমতার বারাণসীতে দাঁড়ানোর নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করে গেলেন মোদী। বললেন, ‘এটা ঠিক, ওখানে তিলক ও টিকিধারী প্রচুর লোক পাবেন। এখানে জয় শ্রী রাম আওয়াজে অতিষ্ঠ হন। প্রতি ২ মিনিট অন্তর শুনতে হবে হর হর মহাদেব। দিদি ও দিদি… তখন আপনার কী হবে! আপনি কী করবেন! কার উপরে রাগ দেখাবেন। আপনাকে অনুরোধ করছি, ইউপি, বেনারসের মানুষদের উপরে রাগ করবেন না। আমাকে এত ভালোবাসা দিয়েছেন, আপনাকেও স্নেহ দেবে।’
আরও পড়ুন- ‘ঘরে সবার মা-বোন আছে, ভোটটা ভেবে দিবি’, কৌশানির ভিডিও ঘিরে বিতর্ক
প্রসঙ্গত এদিন সোনারপুরের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘বাংলার মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। টাকা মারা কোম্পানি মানে টিএমসিকে নবান্ন ছেড়ে যেতে হবে। তৃণমূলে আলোচনা চলছে বলে শুনেছি। তবে সত্যতা যাচাই করিনি। এখনও কয়েকজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি রয়েছেন, দিদির নন্দীগ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করছেন। তাঁরা বলছেন, আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন মমতা। বড় ভুল করেছেন। আমি এও জানতে পেরেছি, নন্দীগ্রামে পরাজয়ের আশঙ্কায় আর একটি আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দিদিকে পরামর্শ দিয়েছিল কয়েকজন। দলের বুদ্ধিমান লোকেরা বললেন, এটা দ্বিতীয় বড় ভুল হবে। বাংলায় দুটি আসনেই হারলে আগামী দিনে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ। সঠিক পরামর্শ দেওয়ার চেয়ে ভুল উপদেষ্টাদের প্রাধান্য দেন মমতা। দিদি ও দিদির স্কুটিকে নন্দীগ্রামে পাঠিয়েছেন তাঁরাই। বাংলা থেকে দিদির টিকিট সাফ করে দেওয়াও নিশ্চিত করে দিয়েছেন। এরা দিদির হিতৈষী! না দিদির অনিষ্টকারী!’
এরপরই মোদী মমতার বারাণসীতে লড়তে চলা প্রসঙ্গ কে কটাক্ষ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিদির পার্টি বলছে, দিদি এবার বারাণসী থেকে লোকসভা ভোটে লড়াই করবেন। এতে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়। দিদি বাংলায় পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। সে কারণে বাইরে যাওয়ার কথা বলছেন। আর দ্বিতীয় কথা, দিদি এবার বাংলার বাইরে নিজের জন্যে নিরাপদ জায়গা খুঁজছেন। বিধানসভায় হারের পর লোকসভায় চেষ্টা করবেন দিদি। হলদিয়া থেকে বারাণসী পর্যন্ত জলপথ চালু করেছে আমার সরকার। হতে এ কারণেও বারাণসীর দিকে তাঁর মন চলে গিয়েছে। দিদি আপনাকে বলতে চাই, দিদি আমার বারাণসীর লোক, আমার কাশীর লোক, ইউপির লোক বড় দিলওয়ালে। আপনাকে বহিরাগত বলবেন না। ট্যুরিস্ট বলবে না। আমার কাশীর লোকের হৃদয় বাংলার মানুষের মতোই উদার।’





