বিশ্ব অর্থনীতির চাপে বেশ কিছু পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক (international) আর্থিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে একাধিক সেক্টরে কর বৃদ্ধি করতে চলেছে একটি দেশের রাজস্ব বোর্ড। কর বৃদ্ধির ফলে প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের ওপর। বিশেষত সিগারেট, মদ, পোশাকের শোরুম, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানের টিকিট, হোটেল এবং রেস্তোরাঁর মতো পরিষেবাগুলিতে খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম আর্থিক সংগঠনের (IMF) শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব বোর্ড ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, এই কর বৃদ্ধির ফলে রাজস্ব বোর্ড প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বাড়তি আয় করবে। কর বৃদ্ধি মূলত এমন কিছু পণ্য ও পরিষেবার ওপর প্রযোজ্য হবে, যা মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কিছুটা হলেও কম থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কর বৃদ্ধির প্রস্তাব ইতিমধ্যেই সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের কাছে জমা পড়েছে এবং তা অনুমোদিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষত শূন্য দশমিক দুই শতাংশ বাড়তি ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য পূরণেই এই পদক্ষেপ। কর বৃদ্ধি কেবল স্থানীয় পণ্য বা পরিষেবার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমদানি করা বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে নজর দিলে দেখা যাচ্ছে, সেখানকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রস্তুত। সুপারি, সাবান, ডিটারজেন্ট, পেইন্ট, আর্টিফিশিয়াল টোব্যাকোর মতো আমদানি করা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হবে। পাশাপাশি মদের বারে শুল্ক বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসবের ফলে বাড়তি কর বাবদ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পশ্চিমবঙ্গের সীমানায় জঙ্গিদের কার্যকলাপ! কি বিপদ অপেক্ষা করছে?
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে IMF-এর শর্তানুযায়ী এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, জানুয়ারির ৫ তারিখ রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে। তবে এই কর বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা জনমানসে একধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





