পশ্চিমবঙ্গের সীমানায় জঙ্গিদের কার্যকলাপ! কি বিপদ অপেক্ষা করছে?

বর্তমান রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ ( west bengal) সহ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মুখে পড়েছে। বিশেষত প্রতিবেশী বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যকলাপ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলও একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যেই আসামে একটি ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে, যা পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমের আলিপুরদুয়ার জেলার বাংলা-অসম সীমান্তের কাছেই একটি জঙ্গি গোষ্ঠী, ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’, তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত থেকে মাত্র ৫১ কিলোমিটার দূরে এই গোষ্ঠী তাদের ঘাঁটি গড়ে ছিল, এবং সেখান থেকে তারা নাশকতা ছড়ানোর পরিকল্পনা করছিল। যদিও পুলিশ তাদের অভিযান চালিয়ে একে উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, জঙ্গিরা আবার নতুন করে সক্রিয় হতে পারে।

এই জঙ্গি ঘাঁটিটি একটি নদীর চরেই স্থাপিত ছিল, যা বছরে অল্প কয়েক মাস ছাড়া সম্পূর্ণ জলমগ্ন থাকে। তবে যখন পানি কমে যায়, তখনই সেখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু হয়। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে অস্ত্র চালানো, আইইডি তৈরির প্রশিক্ষণ চলছিল। একে ‘জঙ্গি তৈরির কারখানা’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

গোটা প্রক্রিয়াটি কয়েক মাস ধরে চলছিল, এবং সেখানে প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল জঙ্গিদের। এটি যে শুধু অসমের সমস্যা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গেরও নিরাপত্তা বিপদ, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিনে অসম, কেরালা, এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’-এর ১২ জন সদস্য গ্রেফতার হয়েছে, যা আরও বড় আতঙ্ক তৈরি করেছে।

আরও পড়ুনঃ মাঝরাস্তায় তর্ক-বিতর্কে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত! বাবুলের অভিযোগ, অভিজিতের পাল্টা হুমকি

এখন প্রশ্ন উঠছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং এর আশপাশের রাজ্যগুলো কি এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের আড়ালে রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনার রেশ কাটিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

RELATED Articles