গতকাল, সোমবার সপ্তাহের শুরুর দিনই রিষড়ায় প্রবল অশান্তির জেরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। অশান্তির জেরে তিন ঘণ্টা বন্ধ হয়ে ওই শাখার ট্রেন চলাচল। রাত ১২টার পর ধীরে ধরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেখা গেল হাওড়া-ব্যান্ডেল শাখার লোকাল কার্যত ফাঁকা। অফিস টাইমেও যাত্রী নেই ওই শাখার ট্রেনে।
পরিস্থিতি কেমন থাকে, তা দেখেশুনেই বেরোতে চাইছেন অনেকে। আবার অনেক অফিস যাত্রীরাই গঙ্গা পেরিয়ে সোদপুর, ব্যারাকপুর, জগদ্দল, শ্যামনগর দিয়ে শিয়ালদহ শাখার ট্রেন ধরে আসছেন। প্রবল আতঙ্ক জন্মেছে মানুষের মনে।
গতকাল, সোমবার রাত নামতেই বিষড়ায় শুরু হয় বোমাবাজি। পুলিশকে লক্ষ্য চলে ইটবৃষ্টি। স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অশান্তি হওয়ার জেরে রাত ৯টায় ছাড়া ব্যান্ডেল লোকালের যাত্রীরা খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অশান্তির কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় আপ ও ডাউন দুই লাইনেই ট্রেন চলাচল। বর্ধমান মেন লাইনেও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ট্রেন লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ ও ব়্যাফ। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর দেখা যায় দুষ্কৃতীদের। পাল্টা ইট ছোঁড়ে পুলিশও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ। হঠাৎ এমন ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে হাওড়ায় বিক্ষোভ দেখান যাত্রীদের একাংশ।
ডালহৌসিতে এক বেসরকারি সংস্থায় চাকরিরত এক যুবক বলেন যে কাল যা হয়েছে তারপর আজ হাওড়া দিয়ে অফিস যাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কখন কী হয় কে বলতে পারে। তিনি জানান, শ্যাওড়াফুলি দু’পয়সার ঘাটতি দিয়ে ব্যারাকপুর থেকে ট্রেন ধরে শিয়ালদহ দিয়ে তিনি ডালহৌসি যাবেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই রিষড়ার পরিস্থিতি থমথমে। ট্রেন চলাচল যাতে স্বাভাবিক থাকে, তার জন্য বিশাল আরপিএফ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ গোটা এলাকায় টহল দিচ্ছে। বেলা বাড়লে পরিস্থিতি কী হবে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।





