১০০ দিনের কাজে বরাদ্দ বৃদ্ধি নেই, কেন্দ্রের বাজেটে হতাশ গ্রামবাংলা

দেশের আর্থিক দিকনির্দেশনা ঠিক করতে এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় বাজেট (Central budget)অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২৫ অর্থবর্ষের জন্য পেশ করেছেন এবারের বাজেট। এতে আয়করে বড় ছাড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, এবং বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দের ঘাটতি নজরে এসেছে।

এবারের বাজেটে গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প বা ১০০ দিনের কাজের জন্য কোনও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়নি। গত বছর এই প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৮৬ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে অপরিবর্তিত ছিল। এবারও সেই একই বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অথচ গ্রামবাংলায় এই প্রকল্পের চাহিদা বাড়ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্র ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বকেয়া টাকা দিচ্ছে না, ফলে রাজ্য সরকারকে নিজেদের তহবিল থেকে টাকা দিতে হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৮২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করতে অতিরিক্ত কোনও বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়নি।

এছাড়া সারের ভর্তুকিতেও বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে কেন্দ্র। গত বছর যেখানে ১ লক্ষ ৭১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, এবছর তা কমে হয়েছে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে, রেশন প্রকল্পেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে। বিনামূল্যে চাল ও গম সরবরাহের ক্ষেত্রে বরাদ্দ গত বছরের ২ লক্ষ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই সমস্ত ছাঁটাই গ্রামীণ অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর পাশাপাশি, এলপিজি ভর্তুকিতেও দেখা গিয়েছে কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত। গত বছরের বরাদ্দ ছিল সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা এবার কমে হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের খরচের বোঝা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ স্বত্বাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ! সাধারণতন্ত্র দিবসের পোস্ট করায় স্থায়ীভাবে বাতিল এক্স হ্যান্ডল! ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ১০০ দিনের প্রকল্পের বরাদ্দে। চাহিদা বাড়লেও কেন্দ্র কোনও অতিরিক্ত বরাদ্দ করেনি। বরং প্রকল্পটির জন্য গত বছরের তুলনায় বকেয়া পরিশোধও করা হয়নি। এই অবস্থায় গ্রামীণ মানুষেরা হতাশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস বারবার এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছে। তবে কেন্দ্রের নীরবতা গ্রামীণ ভারতকে আরও সমস্যার মধ্যে ফেলছে। বাজেট ঘোষণার পর গ্রামীণ অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেল।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles