কী অদ্ভুত! হামলা চালাল দুষ্কৃতীরা, হামলাকারীদের না ধরে উল্টে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা পুলিশের

Non Bailable case against Siliguri Ramkrishna Mission: মাঝরাতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছিল জলপাইগুড়ির রামকৃষ্ণ মিশনে (Ramkrishna Mission)। অভিযোগ, বন্দুক দেখিয়ে সাধুদের মিশন থেকে বের করে দেয় দুষ্কৃতীরা। থানায় এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন সাধুরা। কিন্তু এবার দেখা গেল, উল্টে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের বিরুদ্ধেই জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা (non bailable case) রুজু করেছে পুলিশ (Non Bailable case against Siliguri Ramkrishna Mission)। এদিকে হামলাকারীদের ধরার কোনও বালাই নেই!

কী ঘটেছিল ১৯ মে-র রাতে (Ramkrishna Mission)?

জানা গিয়েছে, গত ১৯ মে শিলিগুড়ির ‘সেবক হাউস’ নামের এক রামকৃষ্ণ মিশনে (Ramkrishna Mission) রাত ৩টে নাগাদ প্রায় ৩৫ জন দুষ্কৃতী ঢোকে। মিশনে থাকা সন্ন্যাসীদের উপর চড়াও হয় তারা। তাদের বন্দুক দিয়ে ভয় দেখিয়ে শারীরিক নিগ্রহ করে মিশন (Ramkrishna Mission) থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি, ৫ সন্ন্যাসী ও নিরাপত্তারক্ষীদের তুলে নিয়ে গিয়ে নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

এই ঘটনার কথা সামনে আসে গতকাল, সোমবার। এদিন ভক্তিনগর থানায় রামকৃষ্ণ মিশনের (Ramkrishna Mission) তরফে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। মূল অভিযুক্তের তালিকায় নাম ছিল প্রদীপ রায়। তবে জানা যায়, এই ঘটনার কিছু সময় পরই অভিযুক্ত প্রদীপ রায় আবার রামকৃষ্ণ মিশনের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ দায়ের (non bailable case) করেন সেই ভক্তিনগর থানাতেই (Non Bailable case against Siliguri Ramkrishna Mission)। কিন্তু প্রশ্ন, অভিযুক্ত থানায় যাওয়ার পরও কেন তাঁকে সেদিন গ্রেফতার করা হল না?

এদিকে আবার জানা যায়, পুলিশ প্রদীপ রায়ের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়, তা লঘু ধারায় রুজু করেছে। অন্যদিকে, প্রদীপ রায় রামকৃষ্ণ মিশনের (Ramkrishna Mission) বিরুদ্ধে যে মালা করেছে, সেই মামলা জামিন অযোগ্য (non bailable case) ধারায় রুজু করা হয়েছে (Non Bailable case against Siliguri Ramkrishna Mission)

কী অভিযোগ করা হয়েছে রামকৃষ্ণ মিশনের (Ramkrishna Mission) বিরুদ্ধে?

জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির বাসিন্দা সুনীলকুমার রায় উইল করে সেবক রোডের চার মাইলে দেড় একর জমি-সহ দোতলা বাড়িটি দান করেছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনকে (Ramkrishna Mission)। কিন্তু পরে প্রদীপ রায় আবার নিজেকে ওই জমির মালিক বলে দাবী করেন। সেই জমির মালিকানা নিয়েই রামকৃষ্ণ মিশনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল একটি। আদালতের রায়েই সেই সম্পত্তি এখন মিশনের হাতে। মিশনের বিরুদ্ধে জমি জবিরদখল করার অভিযোগ করেছেন প্রদীপ রায়।    

এই বিষয়ে শিলিগুড়িতে জেলা তৃণমূলের সম্পাদক পেশায় আইনজীবী অত্রি শর্মা বলেন, “উচ্ছেদকারীরা যে উদ্দেশ্যে মিশনের হেফাজতে থাকা বিতর্কিত জমি থেকে মিশনের (Ramkrishna Mission) কর্মীদের বার করে দেয়। তারপর পুলিশ সেই জমিটি সিল করে নেয়। তদন্তের নামে সিল করে দিয়ে পুলিশ কার্যত উচ্ছেদকারীদের অভিসন্ধিকে সমর্থন করেছে” (Non Bailable case against Siliguri Ramkrishna Mission)

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রদীপ রায়ের বিরুদ্ধে ৫৭ জামিন যোগ্য, ৪২৭ জামিন যোগ্য। ৩২৫ জামিন যোগ্য, ৩৭৯ জামিন অযোগ্য, ও ৫০৬ জামিন যোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ধারায় সহজেই মিলবে জামিন।

আর অন্যদিকে, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের বিরুদ্ধে ৪৪৭ জামিন যোগ্য, ১৮৮ জামিন যোগ্য, ৫০৬ জামিন যোগ্য, ৩(১)(জি)(আর)(এস) জামিন অযোগ্য ধারায় (non bailable case) মামলা রুজু হয়েছে (Non Bailable case against Siliguri Ramkrishna Mission)। ফলে সন্ন্যাসীরা সহজে জামিন পাবেন না।

আরও অন্যান্য খবর