আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে উত্তাল গোটা রাজ্য। দিকে দিকে চলছে আন্দোলন-প্রতিবাদ। জুনিয়র চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন কর্মবিরতি পালন করেছেন। বর্তমানে আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন তারা। এরই মাঝে এবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধেই। নার্সকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাট মহকুমার মুরারই ব্লকের চাতরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। জানা গিয়েছে, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক চয়ন মুখোপাধ্যায় ডিউটিতে থাকাকালীন ধর্ষণ করেছেন এক নার্সকে। গতকাল, শনিবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযুক্ত আপাতত পলাতক। খোঁজ করছে পুলিশ।
লিখিত অভিযোগে নির্যাতিতা নার্স জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক প্রায়ই তাঁকে উত্ত্যক্ত করতেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে তাঁকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন ওই চিকিৎসক। গোটা বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে চেপে রাখার চেষ্টা হয়। তবে নার্সদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কলকাতা থেকে এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপত্তার দাবীতে সরব হন নার্সরা।
জানা গিয়েছে, ওই অভিযুক্ত চিকিৎসক ২০২১ সালে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে চাতরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দেন। নির্যাতিতা নার্সও গত সাত বছর ধরে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত। শনিবার তিনি মুরারই ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অভিজিৎ মণ্ডলকে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। এরপরই ওই নার্সকে নিয়ে রামপুরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জেলার মুখ স্বাস্থ্য আধিকারিক।
এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন বীরভূমের পুলিশ সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, “নার্সের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ”। জানা গিয়েছে, ওই চিকিৎসক মুরারইয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। সেখানেই রাতে হানা দেয় পুলিশ। তবে অভিযুক্ত পলাতক। তাঁর খোঁজ চলছে বলে খবর।
এই ঘটনায় মুরারইয়ের বিধায়ক তথা চিকিৎসক মোশারফ হোসেন এই প্রসঙ্গে বলেন, ”আমি বিষয়টি শুনেছি। এটা অনভিপ্রেত। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত অবস্থায় একজন সহকর্মীর হাতে ধর্ষিতা হবেন এক মহিলা, তা মেনে নেওয়া যায় না। প্রাথমিক অভিযোগ এসেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে”।





