আর জি কর-জয়নগরের পর এবার ভূপতিনগর! বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ-খুন গৃহবধূকে, তুমুল বিক্ষোভ স্থানীয়দের

আর জি করের তরুণী চিকিৎসক ও জয়নগরের ৯ বছরের নাবালিকার পর এবার এক গৃহবধূ। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ-খুন করা হয়েছে মহিলাকে, এমনটাই অভিযোগ। এই ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। রাজ্যের চারিদিক থেকে একের পর এক নারকীয় অত্যাচারের ঘটনার খবর উঠে আসছে। এই ঘটনায় পুলিশের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন এলাকাবাসীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে। জানা গিয়েছে, ভগবানপুর বিধানসভার বাসিন্দা নির্যাতিতা। তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন বলে খবর। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, গত শুক্রবার রাতে গ্রামেরই এক ব্যক্তি বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় গৃহবধূকে। ধর্ষণ করা হয় তাঁকে। বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয়, সেই জন্য ধর্ষণের পর গৃহবধূর মুখে জোর করে কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়।  

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কীটনাশক খাওয়া অবস্থাতেই নির্যাতিতাকে উদ্ধার করেন তারা। ভর্তি করা হয় স্থানীয় হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে।  অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে বের করে এনে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা।

ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, তখন পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুধে এর আগে নানান অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করে নি। অভিযুক্তকে এলাকায় আটকে রাখা হয়। স্থানীয়দের দাবী, অভিযুক্তকে গ্রেফতার কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটা একটা নতুন প্যাটার্ন তৈরি হয়েছে অপরাধের। ধর্ষণ ও খুন। আমরা এক নতুন জায়গায় পৌঁছাচ্ছি। বাংলায় দুষ্কৃতীরাজ চলছে”।

আরও পড়ুনঃ ‘কাজ করব কিন্তু খাবার খাব না…’, দাবী পূরণ করে নি সরকার, ডেডলাইন পার হতেই আমরণ অনশনে জুনিয়র চিকিৎসকরা

বলে রাখি, আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে রাজ্য এমনিতেই উত্তাল ছিল। এরই মধ্যে গতকাল, শনিবার খবর মেলে জয়নগরের ৯ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার। সেই ঘটনায় ফের নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য। টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার সময় ধর্ষণ করে খুন করা হয় নাবালিকাকে। জলাভূমি থেকে উদ্ধার হয় দেহ। এই ঘটনায় পুলিশের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নাবালিকার বাবা যখন পুলিশের কাছে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানাতে যায়, তখন পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। তখন যদি পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নিত, তাহলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না।

RELATED Articles