সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২১ সালের পদ্মশ্রী প্রাপকের তালিকা। পদ্মভূষণ বা পদ্মবিভূষণ বাংলার ঝুলিতে না এলেও এই বছর বাংলা থেকে ৭জন পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হতে চলেছেন। যা টুইট করে জানিয়েছেন বাংলার গভর্নর জগদীপ ধনখড়।
সামাজিক কাজে ছাপ ফেলার জন্য এই বছর পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হতে চলেছেন মালদহের সমাজসেবিকা কমলি সোরেন। যিনি মূলত গুরুমা নামেই পরিচিত।
পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য মনোনীত এই ব্যক্তিত্বের প্রধান লড়াই আদিবাসী সমাজের ধর্মান্তকরনের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মালদহের গাজোলের কোটালহাটি গ্রামে সাত কাঠা জমির ওপরে ‘গুরুমার’আশ্রম। বছর পঞ্চাশের এই আদিবাসী মহিলার সূত্রেই রাতারাতি যেন বিখ্যাত হয়ে উঠেছে মালদহের প্রত্যন্ত কোটালহাটি গ্রাম। এখানেই প্রায় ২৫ বছর ধরে সমাজ সেবার কাজ করছেন কমলি সোরেন। ভিক্ষাবৃত্তিই তাঁর প্রধান জীবিকা। আর তা করেই গড়ে তুলেছেন কল্যান আশ্রম।
ধর্মান্তকরণ ছাড়াও কমলির অন্যতম লড়াই আদিবাসী সমাজে প্রচলিত ডাইনি প্রথার বিরুদ্ধেও। কিলোমিটার পর কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতার প্রচার চালিয়েছেন। কোটালহাটি ও আশেপাশের গ্রামে গুরুমার শিষ্য সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। গাজোলের মানুষ বিশ্বাস করেন তাঁদের লড়াইয়ের মুখ কমলি সোরেন। গরিব আদিবাসীদের খাবার জোগান দেওয়া আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ার কাণ্ডারী তিনি। গুরুমার পদ্মশ্রীসম্মান প্রাপ্তিতে খুশির হাওয়া আদিবাসী প্রধান গ্রামে।
কমলি মনে করেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া এই সম্প্রদায়ের দারিদ্র ,অসহায়তার সুযোগ নিয়ে আদিবাসীদে ভুল বুঝিয়ে ধর্মান্তকরন করা হয়েছে দীর্ঘকাল। এর বিরুদ্ধেই সাহস করে প্রচার চালান তিনি। তাঁর হাত ধরেই ভুল বুঝিয়ে ধর্মান্তকরন হওয়ারা ফিরেছেন হিন্দু ধর্মে। অন্তত ২০ জনকে এভাবে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়েছেন তিনি।
তবে শুধু হিন্দু ধর্মই নয়। নিজের সমাজসেবিকা। তিনি সম্প্রদায় ভিত্তিক কচকচানির ঊর্ধ্বে। আর তাই আদিবাসীদের তো বটেই বহু ধর্মান্তরিত মুসলিমকেও হিন্দু ধর্মে ফেরানোর প্রয়াসে রয়েছেন গুরুমা। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। নিজের পৃথক আশ্রম থাকলেও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর জনজাতি সংগঠন বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের সদস্য কমলি। তাহলে কি সংঘঘনিষ্ঠতারই পুরস্কার, প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। তবে গুরুমার ভক্তরা বলছেন উনি বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের কর্মকাণ্ড সঙ্গে যুক্ত হলেও ওনার আশ্রম পৃথক। তার আশ্রম নিছকই পূজার্চনা ও ধর্ম চর্চা কেন্দ্র।





