বৃহস্পতিবার বিজেপির নবান্ন অভিযানে এক শিখ ব্যক্তির পাগড়ী মেরে খুলে দেওয়া নিয়ে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়েছে কলকাতা পুলিশ। ওই ব্যক্তির নাম বলবিন্দর সিং, তিনি এক বিজেপি নেতার দেহরক্ষী হিসাবে এসেছিলেন।তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এই মর্মে তাকে প্রবল প্রহার করে কলকাতা পুলিশ। এই প্রহারের সময়ই তার মাথার পাগড়ী খুলে যায় যা একজন শিখের কাছে হত্যার থেকেও বড় অপমান। কারগিল যুদ্ধে লড়াই করা এই প্রাক্তন সেনার এহেন অপমান স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই বরদাস্ত করতে পারছেন না।এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ব্যবস্থা নিতে আর্জি জানিয়ে টুইট করেছিলেন ক্রিকেট তারকা হরভজন সিং।
https://twitter.com/RT_MediaAdvPbCM/status/1314613632580284416?s=20
এবার আসরে নামলেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহ। ওই কাণ্ডে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি। এমনকি শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদলের গলাতেও একই আর্জি শোনা গিয়েছে।
Strongly condemn the vicious attack on a Sikh security official Balwinder Singh & disrespect of his #turban by West Bengal Police. The dishonour has infuriated Sikhs across the world. I urge @MamataOfficial ji to take exemplary action against the erring policemen. pic.twitter.com/o0QUP9pnWJ
— Sukhbir Singh Badal (@officeofssbadal) October 9, 2020
যদিও রাজ্য পুলিশ এখনও এই ব্যাপারে ক্ষমাপ্রার্থনা তো করেইনি বরং বিতর্কে ইতি টানতে তারা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার তত্ত্ব অস্বীকার করেছে। তাদের অধিকাংশের মতে এই নিয়ে অহেতুক জল ঘোলা করা হচ্ছে কিন্তু অনেকেই বলছেন এই অপমানের মর্ম একমাত্র শিখরাই বুঝতে পারবে, কলকাতা পুলিশ তো মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের কর্মী দিয়ে তৈরি তাই তারা যতক্ষণ না নিজেদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত পড়বে তারা বুঝতে পারবে না। যাঁর পাগড়ি খোলা নিয়ে এত বিতর্ক, সেই শিখ যুবক বলবিন্দর সিং এর থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তলও উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
https://twitter.com/WBPolice/status/1314599473897562112?s=20
হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট জানাচ্ছে যে, এই শীত যুবক নিজেকে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য প্রিয়াঙ্গু পান্ডের দেহরক্ষী বলে পরিচয় দিয়েছেন। তার কাছে যে পরিচয় পত্র পাওয়া গিয়েছে সেখান থেকে জানা যাচ্ছে তিনি জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি এলাকার বাসিন্দা।
তাকে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছে বেআইনিভাবে অস্ত্র নিয়ে ঘোরার অভিযোগে কারণ তার কাছে এই বন্দুকের যে লাইসেন্স রয়েছে তা রজৌরির জেলাশাসক অনুমতি দিয়েছেন ব্যবহার করার জন্য এবং লাইসেন্স এ লেখা রয়েছে এই অস্ত্রটি নিয়ে শুধুমাত্র ওই জেলাতেই ঘোরাফেরা করা যাবে।তাই পশ্চিমবঙ্গে এই অস্ত্র নিয়ে আসা বেআইনি তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যদিও পাগড়ী খোলা বিতর্ক নিয়ে রাজ্য পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে যে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময়ে ওই যুবকের পাগড়ী আপনা থেকেই খুলে গিয়েছে। কোন পুলিশকর্মী খুলে দেন নি কারণ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সমস্ত ধর্মকে শ্রদ্ধা করে। পরে পুলিশ বলবিন্দরকে পাগড়ী পরে নিতে বলে এবং গ্রেফতারের পর যখন তাকে গাড়িতে তোলা হয় তিনি পরেও নেন পাগড়ী।
প্রসঙ্গত, বিজেপির ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাগড়ি খুলে যাওয়ার ভিডিয়ো টুইট করেছিলেন দিল্লির জংপুরের বিজেপি নেতা ইমপ্রীত সিংহ বক্সি।এরপরই সেই ভিডিও দেখে হরভজন সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ট্যাগ করে টুইট করার ঘটনা এখন সম্পূর্ণ অন্য দিকে মোড় নিয়েছে। এবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী গোটা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করায় মমতা সরকার এখন চূড়ান্ত চাপের মুখে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





