ছাত্রীকে বকাঝকা করেছিলেন শিক্ষিকা, সেই স্কুল শিক্ষিকাকেই চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মা’র’ধ’র ছাত্রীর মা-বাবার

এক ছাত্রীকে বকাবকি করেছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। সেই স্কুল শিক্ষিকাকে রাস্তায় পেয়েই মারধর করতে শুরু করলেন ওই ছাত্রীর মা-বাবা। এই ঘটনায় শোরগোল গোটা স্কুলে। ভয়ে সিঁটিয়ে অন্যান্য শিক্ষিকারা। স্কুলের তরফে ওই ছাত্রীর মা-বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?

এই ঘটনাটি ঘটেছে বজবজের রাজারামপুর গার্লস হাইস্কুলে। নির্যাতিতা ওই স্কুল শিক্ষিকার নাম অমৃতা মিত্র দত্ত। জানা গিয়েছে, গতকাল, বুধবার সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বকাঝকা করেছিলেন অমৃতা। শাস্তিও দিয়েছিলেন। স্কুল থেকে ফেরার পর সেই ছাত্রী নাকি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেই থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন ছাত্রীর মা-বাবা।

আজ, বৃহস্পতিবার সকালে জখম অমৃতা স্কুলে আসছিলেন, সেই সময় তাঁর পথ আটকান ওই ছাত্রীর মা-বাবা, পরিবারের লোকজন। শিক্ষিকাকে অটো থেকে নামিয়ে চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে মা’র’ধ’র শুরু করেন ছাত্রীর মা-বাবা।

এমন ঘটনায় গোটা স্কুলে শোরগোল পড়ে যায়। এক শিক্ষিকার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটায় আতঙ্কে রয়েছেন স্কুলের বাকি শিক্ষিকারাও। স্কুলের তরফে ওই ছাত্রীর মা-বাবার বিরুদ্ধে বজবজ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। আহত শিক্ষিকাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় ছাত্রীর মাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

কী জানাচ্ছেন স্কুলের অন্য শিক্ষিকা?  

এই ঘটনায় স্কুলের অন্য এক শিক্ষিকা মন্দ্রিতা চক্রবর্তী বলেন, “ওনাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। রাস্তায় ফেলে মারা হয়েছে। আমরা শুনেছি সামন্য বকা দিয়েছিলেন। ক্লাস দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন ছাত্রীটিকে। তাতেই এই কাণ্ড। বাচ্চাটির নাকি বাড়ি গিয়ে জ্বর এসেছে, পেটে ব্যথাও হয়। ওরা তো স্কুলে এসে আমাদের বলতে পারত। তা না করে অটো থেকে চুল ধরে নামিয়ে থামে মাথা ঠুকে দেয়। তারপর বেধড়ক মা’র শুরু করে ছাত্রীটির বাবা। আমরা তো অনেক চেষ্টা করে ছাড়াতেও পারিনি। আমরা তো কেঁদে ফেলেছিলাম। আমরা সত্যিই খুব ভয়ে রয়েছি। এটা কী করে কেউ করতে পারে তা ভাবতে পারছি না”।

আরও অন্যান্য খবর