আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনার প্রভাব পড়েছে রাজ্য-দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও। চারিদিকে চলছে বিক্ষোভ-আন্দোলন। এখনও কর্মবিরতি জারি জুনিয়র চিকিৎসকদের। নানান মহল থেকে গড়ে উঠছে প্রতিবাদ। সকলের একটাই দাবী দোষীদের উচিত শাস্তি। এমন আবহে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক দাবী করলেন নির্যাতিতার মা-বাবা।
তরুণী চিকিৎসকের ন্যায় বিচারের দাবীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাস্তায় নেমেছিলেন। দোষীদের শাস্তির দাবী তুলেছেন তিনিও। কিন্তু অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ বা ছাত্র সমাজের তরফে যখন কোনও আন্দোলন মিছিল বের করা হচ্ছে, সেই মিছিলে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। নানান জায়গায় জারি ১৬৩ ধারা। এর সবথেকে বড় উদাহরণ যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান সমর্থকদের আন্দোলনে পুলিশের হামলা।
এবার এই ঘটনাতেই মমতার উপর ক্ষোভ বর্ষণ করলেন আর জি করের নির্যাতিতা তরুণীর মা-বাবা। তাদের কথায়, “উনি নিজেই দাবী করছেন নির্যাতিতার বিচার চাই। তাহলে অন্যদের কেন আটকাচ্ছেন। দ্বিচারিতা করছেন উনি। মমতা আসলে ভয় পাচ্ছেন”।
শুধু তাই-ই নয়, তাদের মেয়ের জন্য যারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন, তাদের উদ্দেশে নির্যাতিতার মা-বাবা বলেন, “আমরা ওদের সঙ্গে আছি। যারা আমাদের মেয়ের জন্য জন্য এমনভাবে লড়ছেন, তারাও আমাদের ছেলেমেয়ে”। সকল নারীদের উদ্দেশে নির্যাতিতার মায়ের আবেদন, যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন, তারা আগে ভেবে দেখুন, তারা নিজেরা কতটা সুরক্ষিত এই রাজ্যে।
শোনা গিয়েছিল, নির্যাতিতার মা-বাবাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা দিতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেও এক সভায় জানিয়েছিলেন, তিনি নির্যাতিতার মা-বাবাকে ১০ লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা রাজি হন নি। এই বিষয়ে নির্যাতিতার মা-বাবা বলেন, “আমাদের উনি বলেছিলেন টাকার কথা, কিন্তু আমরা রাজি হই নি। আমাদের কত টাকা সেটা বলেন নি। বাইরে গিয়ে বলেছেন শুনেছি”। তাদের কথায়, তাদের মেয়ে যদি ন্যায় বিচার না পায়, তারা সেই টাকা নেবেন না।





