এমনিতেই এই মুহূর্তে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরগরম গোটা রাজ্য। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই নিয়োগ দুর্নীতির জেরেই জেলবন্দি। গতকালই আবার এই নিয়োগ দুর্নীতিতেই সিবিআই তল্লাশি চলে পার্থ-ঘনিষ্ঠ বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের বাড়িতে। আর এরই মাঝে অহরহ উঠে আসছে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির অচলাবস্থার খবর।
হেড স্যার প্রায় দু’বছর ধরে ঠিকমতো স্কুলেই আসেন না। আর এলেও ম’দ্যপান করেই স্কুলে আসেন তিনি। স্কুলে ঠিকঠাক মিড ডে মিল পায় না পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে স্কুলে পড়াশোনাও লাটে উঠেছে বলে দাবী অভিভাবকদের। এই নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেন অভিভাবকরা। বিক্ষোভ দেখিয়ে স্কুলের গেটে ঝুলিয়ে দিলেন তালা।
কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?
এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর ব্লকের এক প্রাথমিক স্কুলে। অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগে ইসলামপুর দক্ষিণ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও বিডিও অফিসে অভিযোগও জানিয়েছেন তারা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। সেই কারণেই বিক্ষোভের পথই বেছে নিয়েছেন তারা।
এদিন এই বিক্ষোভে সামিল হতে দেখা যায় স্কুলের পড়ুয়াদেরও। স্কুলের সহ-শিক্ষিকরা স্বীকার করে নিয়েছেন যে প্রধান শিক্ষক ম’দ্য’প অবস্থায় স্কুলে আসেন। তিনি যে নিয়মিত স্কুলে আসেন না, তাও জানান তারা। সহ-শিক্ষকরা এও মেনে নেন যে প্রধান শিক্ষকের কারণেই এমন বেহাল দশা হয়েছে স্কুলের। দেওয়া হয় না ঠিকমতো মিড ডে মিলও।
এদিন এই বিক্ষোভের খবর পেয়ে স্কুলে পৌঁছয় ইসলামপুর থানার রামগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ। ইসলামপুর দক্ষিণ চক্রের এসআই বেলাল হোসেনও যান স্কুলে। উত্তেজিত অভিভাবকদের শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। এসআই জানান যে এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদকে জানানো হয়েছে। প্রশাসন কর্তারা এই বিষয়টি খতিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সাসপেন্ডের দাবী তুলেছেন অভিভাবকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে স্কুলের গেটের তালা খুলে দেয় পুলিশ।





