গত জুলাই মাস থেকে দু’জনেই নিয়োগ দুর্নীতির কাণ্ডে (recruitment scam) জেলবন্দি। দেখা নেই বহুদিন। দীর্ঘ মাস যাপনের পর অবশেষে আজ, মঙ্গলবার ভার্চুয়াল শুনানিতে (virtual hearing ) দেখা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee)। আর দেখা হতেই যেন আবেগ সামলাতে পারলেন না দু’জনেই। ভার্চুয়াল শুনানিতে প্রেমালাপে মাতলেন অপা।
তখন ২টো ৫০ বাজে। স্ক্রিনে ফুটে উঠল পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। এতদিন পর দু’জন দু’জনকে দেখে মুচকি হাসলেন। ইশারায় জানতে চাইলেন ভালো আছেন কী না! কিছুক্ষণ পর অর্পিতাকে পার্থ ইশারায় জিজ্ঞাসা করেন তিনি খেয়েছেন কী না? অর্পিতাও একই প্রশ্ন করেন পার্থকে।
অর্পিতা পার্থকে ইশারায় জিজ্ঞেস করেন যে তিনি শুনতে পাচ্ছেন কী না। পার্থ জানান, শোনা যাচ্ছে না। অর্পিতাও শুনতে পাচ্ছিলেন না। এরপরই অর্পিতার সঙ্গে মশকরা শুরু করেন পার্থ। জিভ ভেঙাতে দেখা যায় তাঁকে যা দেখে হেসে ফেলেন অর্পিতা।
এসব কথোপকথনের মাঝেই অর্পিতার দিকে হার্ট সাইন দেখান পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাতে বেশ লজ্জা পেয়ে হাসেন অর্পিতা। এরপরই ৩ টে বেজে ৮ মিনিট নাগাদ নিজের নীল রঙের ফতুয়া হাত দিয়ে দেখান পার্থ। তা দেখে অর্পিতা মাথা নেড়ে সম্মতি জানান। তবে তিনি যে ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন, তা ঠিক স্পষ্ট নয়।
এরপর যখন ৩ টে ১০ মিনিট বাজছে, সেই সময় ইশারায় পার্থকে অর্পিতা জিজ্ঞেস করেন যে তাঁর চা খাওয়া হয়েছে কী না। ঠিক সেই সময়ই আবার পার্থ বুকের বাঁদিকে আঙুল দিয়ে কিছু লেখার ইশারা করেন। ফের একে অপরকে দেখে হাসতে থাকেন।
এর কিছু মুহূর্ত পরই পার্থ কিছুক্ষণের জন্য ডিসকানেক্ট হয়ে যান। তা দেখে বেশ দুশ্চিন্তার ছাপ পড়ে অর্পিতার মুখে। তবে কানেকশন ফিরতেই পরক্ষণেই হাসির রেখা ফুটে ওঠে অর্পিতার ঠোঁটে। পার্থ আবার অর্পিতাকে তাঁর চুল সামনে আনতে বলেন। আর তা শুনে বেশ লজ্জা পান অর্পিতা। পাল্টা আবার পার্থর গোঁফের প্রশংসা করেন অর্পিতা।
ফের কিছুক্ষণের জন্য ফের ডিসকানেক্ট হয়ে যান পার্থ। সেই সময় পার্থ জানান যে তিনি চা খাচ্ছিলেন। দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হয়ে যেন তরুণ প্রেমিক-প্রেমিকাদের মতো মেতে উঠেছিলেন পার্থ-অর্পিতা। পার্থকে অর্পিতা ঠোঁট দেখিয়ে কিছু ইশারা করেন। তাতে পার্থ আবার বলেন, মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে নাকি!
সাড়ে তিনটে নাগাদ কথা বলা শুরু করে মানিক ভট্টাচার্য। ‘প্রেমে’ ব্যাঘাত ঘটে পার্থ-অর্পিতার। প্রেমালাপ বন্ধ হয়। শুনানি শেষে পার্থকে কিছু একটা লিখে বোঝানোর চেষ্টা করেন অর্পিতা। বলে রাখা ভালো। এর আগে পার্থ ও অর্পিতা, দু’জনেই জেরায় জানিয়েছিলেন যে তাদের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু আজকের তাদের এমন কথোপকথনে তো তাদের সম্পর্কের গভীরতা বেশ ভালো মতোই প্রকাশ পেল।





