নিয়োগ দুর্নীতিতে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই, ফের একবার এমনটাই দাবী করলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আজ, বৃহস্পতিবার বিশেষ সিবিআই আদালতে পার্থ বলেন, “আমি নিয়োগকর্তা নই, আমি মন্ত্রী ছিলাম। আমি বেআইনি কাজকে সমর্থন করি না, করব না”। তিনি এও বলেন যে বোর্ড নিজের আইনে চলে। এখানে বোর্ড বলতে স্কুল সার্ভিস কমিশন ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকেই বোঝাতে চেয়েছেন পার্থ, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
গত ২রা মার্চ সিবিআই বিশেষ আদালতে নিয়োগ সংক্রান্ত শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, এদিন তাঁর সঙ্গে শুনানি ছিল নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত আরও ১২ জনের। পার্থ দাবী করেছিলেন যে স্কুল সার্ভিস কমিশন হোক বা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, সবটাই স্বশাসিত সংস্থা। পার্থর দাবী নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর কোনও ক্ষমতা নেই।
পার্থ যে স্মস্য রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় স্কুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে রয়েছে ইডি। গত বছরের জুলাই মাসের শেষের দিকে ইডি গ্রেফতার করে পার্থকে। স্কুল নিয়োগ প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, “নিয়োগ সংস্থা এসএসসি বা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ— সবটাই স্বাধীন বোর্ড। মন্ত্রী এখানে তো নিয়োগকর্তা নন”।
পার্থ-সহ ১৩ জনকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। অভিযুক্তদের আর কত দিন হেফাজতে রাখা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাদের আইনজীবীরা। তাদের কথায়, আদালতও সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত শান্তিপ্রসাদ সিন্হা এবং আবদুল খালেকের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, একটি মামলা বছরের পর বছর চলতে থাকলে অভিযুক্তদের সঙ্গে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। অভিযুক্ত যে বেঁচে থাকবেন, সেই নিশ্চয়তাও নেই। আজ, বৃহস্পতিবারও মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে এবং নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় সিবিআই অভিযুক্ত শান্তিপ্রসাদ সিনহাকে হেফাজতে নিতে না চাওয়ায় তদন্তকারী সংস্থাকে ভর্ৎসনা করেন বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক।





