‘ডিএ আন্দোলনকারীরা ভোটের ডিউটি করলে কোনও আপ্যায়ন নয়, ওদের চাপে রাখতে হবে’, দলীয় কর্মীদের নিদান তৃণমূল নেতার

বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবী তুলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটা বড় অংশ। আন্দোলনকারীরা ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যে। যদিও সেভাবে তা ফলপ্রসূ হয়নি রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের কারণে। এবার সেই ডিএ আন্দোলনকারীদের নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ। ভোটের ডিউটিতে এলে ডিএ আন্দোলনকারীদের চাপে রাখার নিদান দেন তিনি।

ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকে বড়ালিতে তৃণমূলের একটি সভা ছিল। সেই সভায় কয়েকজন আইএসএফ কর্মী যোগ দেন তৃণমূলে। সেই সভা থেকে বিরোধীদের আক্রমণ না করে, ডিএ আন্দোলনকারীদের আক্রমণ করে বসলেন তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ।

ডিএ আন্দোলনকারীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যত খায়, পোষায় আর না। এটা কিন্তু দিদির কথা। ওরাই আবার কিন্তু ভোট করাতে আসবে। আমাদের জায়গার লোক অন্য জায়গায় যাবে, আর অন্য জায়গার লোক এখানে আসবে। যারা সব প্রিসাইডিং অফিসার হয়। ওরা কিন্তু সব ওই লোক, যারা ভাতা দাও বলে আন্দোলন করছে, ভোট করতে যাব না বলে আন্দোলন করছে। ওরা যখন বুথে আসবে, নিজেদের লোক বলে চাটাচাটি করো না কিন্তু। সব ডিস্টার্ব”।

এরপরই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ওদের ডিস্টার্ব সারিয়ে দিতে হবে কিন্তু। ওদের ওই মুরগির মাংস টাংস খাওয়ানোর চিন্তাভাবনা করিস না কিন্তু। চাপে রাখবি”।

তাঁর এহেন মন্তব্যে যে বিতর্ক শুরু হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে তাতে বিশেষ আমল না দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাইজার আহমেদ আরও বলেন, “ডিএ নিয়ে যারা আন্দোলন করছেন, তারাই হবে প্রিসাইডিং অফিসার। আমাদের কর্মীদের মধ্যে, বিশেষত এটা ভাঙড়ের মানুষের কালচার, সেটা হল আতিথেয়তা। খাবার-ফ্যান-আলোর ব্যবস্থা করে দেয় আমাদের কর্মীরা। আমাদের কর্মীরা আবার রান্নাবান্না করে খাবার নিয়ে যায়। আমি এবার বলে দিয়েছি, ওত বেশি আপ্যায়ন করার দরকার নেই”।

এই বিষয়ে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “ওরা সবসময়ই প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এনেছেন। তবে কেউ যদি আইন বহির্ভূত কথা বলেন, তাহলে আইনের কাছে জবাব দিতে হবে। এটা ২০১৮ সাল নয়, যে এক চেটিয়া ভোট করিয়ে বেরিয়ে যাবে। গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব আমাদের কাঁধে”।

RELATED Articles