আইসিইউ-তে যাতে কোনওরকম সংক্রমণ ছড়াতে না পারে, এই কারণে কাঁচের ঘরের বাইরে থেকেই স্ত্রীকে দেখে মনের ইচ্ছে মেটাতে হয় অর্ণবকে। ২০১৬ থেকে এখন পর্যন্ত, এই ব্যবস্থা চলে আসছে। এভাবেই নিজের দাম্পত্য জীবনে লড়াই করে চলেছেন অর্ণব। তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাজশ্রী, দুজনেই পেশায় চিকিৎসক। কিন্তু এই চিকিৎসার গাফিলতির জন্যই আজ রাজশ্রী কোমায়। শরীরে কোনও সাড় নেই, মুখে কথা নেই। নিজের প্রিয়জনকে হয়ত চিনতেও পারেন না সেভাবে। কিন্তু সেই মানুষ এখন করোনা আক্রান্ত। এই খবর শোনামাত্র মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে অর্ণবের। যেখানে অর্ণব নিজে পর্যন্ত সংক্রমণের ভয়ে আইসিইউর ভেতরে ঢোকার অনুমতি পান না, সেখানে কী করে করোনা গ্রাস করল তাঁর স্ত্রীকে?
২০১৬ সালে জরায়ুতে টিউমারের জন্য সামান্য একটা অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে কোমায় চলে যান রাজশ্রী। সেই থেকে সিএমআরআই-এর বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন অর্ণব। প্রথমে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে ছয় মাসের মধ্যে সেরে উঠবে রাজশ্রী, কিন্তু সাড়ে চার বছর হয়ে যাওয়ার পরও কোনও উন্নতি হয়নি তাঁর শরীরের। এবার স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ফের একবার হাসপাতালের গাফিলতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন অর্ণব। এমনকি, এও জানা যায় যে তাঁর স্ত্রী যে করোনা পজিটিভ তাও তাঁকে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়নি। সরকারি কোভিড পোর্টাল থেকে তা জানতে পারেন অর্ণব।
আইসিইউ-তে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে করোনা সংক্রমিত হতে পারে, তা জানতে হাসপাতালে ছোটেন অর্ণব। জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী সত্যিই করোনা পজিটিভ। এই কথা কেন তাঁকে জানানো হল না, এর কোনও উত্তর মেলেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে। এমনকি, রাজশ্রীকে আইসিইউ থেকে সরিয়ে অন্য ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে, তাও তিনি যাতে পারেন হাসপাতালে পৌঁছনোর পর।
এরপর আর কোনও খবর মেলেনি রাজশ্রীর। এটা জানতে পারেন যে, তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। তাঁর শরীরে মারাত্মকভাবে বাসা বেঁধেছে করোনা। কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন অর্ণব। গতকাল, শনিবার রাতে অর্ণবের কাছে ফোন আসে হাসপাতাল থেকে। নতুন ওষুধ দেওয়া নিয়ে সম্মতি চাওয়া হয় পরিবারের। হঠাৎ এমন ফোন পেয়ে আতঙ্ক ছড়ায় অর্ণবের পরিবারে।
আরও পড়ুন- করোনা পরিস্থিতিতে রেলের মহান উদ্যোগ, সংক্রমণ রুখতে করোনা আক্রান্তদের জন্য ফের চালু ‘করোনা কোচ’
অর্ণব জানিয়েছেন, বহুদিন আগেই ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে সিএমআরআই কর্তৃপক্ষ এবং ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার শুনানি চলছে। এমনকী রাজ্যের ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিসমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন। স্ত্রী রাজশ্রীর জন্য লড়াইয়ে অর্ণবকে ছাড়তে হয়েছে রেলের চিকিৎসকের দায়িত্ব। স্ত্রী-র জন্য ন্যায় বিচার পেতে মাঝেমধ্যেই তাঁর বিভিন্ন মহল থেকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতেও যখন অর্ণবকে দমানো যায়নি তখন রাজশ্রী-র আরও ক্ষতি করে দেওয়া রও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই মামলায় রাজ্যের এক প্রভাবশালী চিকিৎসক কাম মন্ত্রীর হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন অর্ণব। আইসিইউ-তে কর্মরতদের নিয়মিত কোভিড ১৯ টেস্ট হয়েছে কি না তার রিপোর্ট সিএমআরআই কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়েছেন অর্ণব। এদিকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চলেছেন স্ত্রী রাজশ্রী।





