করোনার মধ্যেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। ইতিমধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক মানুষ। কিছু কিছু রাজ্যে আবার এই রোগকে মহামারীর নামও দেওয়া হয়েছে। এবার রাজ্যের এক সরকারি হাসপাতাল থেকেই পলাতক এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত মহিলা। পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, ওই মহিলা মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। দিন কয়েক আগেই নানান উপসর্গ নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসাপাতালে ভর্তি হন ওই মহিলা। বয়স ৫৫ বছর। তাঁর সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় যে ওই মহিলার শরীরে বাসা বেঁধেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। সেকথা তাঁকে জানানোও হয়।
তবে হাসপাতাল সূত্রের খবর, এই কথা শোনার পরই বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ওই মহিলা। কিছুক্ষণ পর নার্সরা তাঁর খোঁজ নিতে এলে দেখেন নির্দিষ্ট বেডে নেই ওই মহিলা। এরপরই শুরু হয় খোঁজখবর নেওয়া। গোটা হাসপাতালে তাঁকে খোঁজাখুঁজি করা হলেও হদিশ মেলে না।
আরও পড়ুন- ভয় নেই! শিশুরা বেশি আক্রান্ত হবে না করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে, সেরো-সার্ভেতে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এরপর মহিলা উধাও হওয়ার ঘটনা জানানো হয় পুলিশকে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছেন। এই বিষয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ডিন সন্দীপ সেনগুপ্ত বলেন, “আমাদের মেডিক্যাল কলেজ থেকে এক মিউকরমাইকোসিস সংক্রমিত এক মহিলা উধাও হয়ে গিয়েছেন। সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ওই মহিলার খোঁজ করছেন”।
সাধারণত করোনা আক্রান্ত রোগীর শরীরেই থাবা বসাচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। অতিরিক্ত স্টেরয়েড ব্যবহারের কারণে এই ছত্রাক শরীরে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের কারণে নাকের সমস্যা, চোখের সমস্যার মতো আরও নানান উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। ঠিক সময় চিকিৎসা না হলে ভয়ংকর আকার ধারণ করছে এই ফাঙ্গাস। প্রাণহানিরও আশঙ্কা রয়েছে।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছাড়াও হোয়াইট, গ্রিন, ইয়েলো ফাঙ্গাসের হদিশ মিলেছে। রাজ্যে করোনা রোগীর হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা এর আগে অনেকবার শিরোনামে উঠে এসেছে। তবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীর হাসপাতাল থেকে পালানোর ঘটনা রাজ্যে সম্ভবত এই প্রথম।





