কেউ কেউ এক ঘণ্টা, কেউ কেউ দু’ঘণ্টা তো কেউ আবার আধা ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন লাইনে। আউটডোরে রোগীর লাইন পড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে ইনডোরেও ভর্তি প্রসূতি ও অন্যান্য রোগীরা। কিন্তু হাসপাতালে দেখা নেই চিকিৎসক-নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের। কোথায় গেল সবাই মিলে? হাসপাতালে অস্থির কাণ্ড।
গতকাল, সোমবার ছিল ১লা জানুয়ারি অর্থাৎ বর্ষবরণ। প্রতি বছরই এই দিনে অনেকেই বাইরে পিকনিক করতে বেরিয়ে পড়েন। অনেকেরই এইদিন ছুটি থাকলেও বেশ কিছু পেশাতে ছুটি থাকে না। জরুরি পরিষেবা চালু থাকে। স্বাস্থ্য পরিষেবা এর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু বর্ষবরণের দিন অন্ডাল ব্লকের খান্দরায় গ্রামীণ হাসপাতালে ধরা পড়ল এক অন্য ছবিই।
কী ঘটেছে সেখানে?
ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইনডোরে ভর্তি প্রসূতি ও অন্যান্য রোগী। এদিকে আউটডোরেও রোগীদের লাইন পড়ে গিয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের মধ্যে দেখা নেই চিকিৎসক , নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। কোথায় গেলেন সকলে? জানা গিয়েছে, এদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তিনতলার ছাদে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। ব্যস্ত রান্নার কাজে ক্যাটারিংয়ের কর্মীরা। আর বেলা দেড়’টার পর শুরু হয় খাওয়া-দাওয়ার পর্ব। টেবিলে সাজানো বেগুনি, ভাত, মিক্সড ভেজ, মুগ ডাল, মাছ, মটন কারি, চাটনি,পাপড়, মিষ্টি। কবজি ডুবিয়ে খান স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেই কারণে হাসপাতালের মধ্যে নেই চিকিৎসক, নার্সরা।
দীর্ঘক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন অনেক রোগী। কিন্তু মেলে না পরিষেবা। মিলবেই বা কী করে, চিকিৎসকই যে নেই। ৩০ জন চিকিৎসক, নার্স তখন ব্যস্ত পিকনিকে। এক রোগী জানান, তিনি চল্লিশ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছেন কিন্তু চিকিৎসক আসেন নি। অনেক রোগীই আবার পরিষেবা না পেয়ে ফিরে যান।
চিকিৎসক-নার্সদের কাণ্ডে সরব বিজেপি
এহেন ঘটনায় সমালোচনায় সরব বিজেপি। বিজেপি নেতা ত্রিদিব চক্রবর্তী বলেন, রাজ্যে শুধু খেলা আর মেলা চলছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে একেবারে। পরিষেবা বন্ধ রেখে চিকিৎসকদের ফুর্তি করার ঘটনায় তা আরও একবার প্রমাণিত হল।
এদিকে, পশ্চিম বর্ধমান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার শেখ ইউনুস খান বলেন, “হাসপাতালের ভিতরে পিকনিক না হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিল। পরবর্তীতে এটা যেন না হয় তা দেখব। তবে রোগী পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে বলে শুনিনি”।





