ভারত এক বৈচিত্র্যময় দেশ। নানান জায়গার নানান রীতিনীতি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও কম বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায় না। নানান পুজোতে দেখা নানান নিয়ম, রীতি-রেওয়াজ। দুর্গাপুজোকে ঘিরেও নানান জায়গায় নানান রীতি প্রচলিত রয়েছে।
তেমনই এক অদ্ভুত রীতি প্রচলিত রয়েছে বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লকের ঝগড়াই গ্রামে। দশমীর দিন ঠাকুর বিসর্জনের পর যখন সকলে একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান, সেই সময় এই ঝগড়াই গ্রামের বাসিন্দারা একে অপরের গায়ে কাদাজল ছুঁড়ে উদযাপন করে বিজয়া দশমী। পুকুরের জল এনে, কাদা তৈরি করে সেই জলে নেমেই চলে দাপাদাপি। মঙ্গলবার সেই গ্রামে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর এভাবেই একে অপরকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানালেন সেখানকার বাসিন্দারা।
এটাই এই গ্রামের চিরাচরিত রীতি। কাদাজল গায়ে ছুঁড়েই জানানো হয় বিজয়ার শুভেচ্ছা। পরম্পরা মেনে আজও গ্রামবাসীরা এই রীতিই পালন করে চলেছেন। প্রতি বছর দশমীর দিন ৭টি পুকুরের জল এনে গ্রামের মন্দির লাগোয়া প্রাঙ্গনে ধরে রাখা হয়। কাদা তৈরি হলে, সেই জল ও কাদা ছুড়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ে মেতে ওঠেন গোটা গ্রামের মানুষ।
কেন হয় এমন অদ্ভুত রীতি?
এই গ্রামে পূজিত হন ঝগড়াই ভঞ্জনি রূপী দেবী দুর্গা। এই পুজো প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। এই পুজো শুরু করেছিলেন মল্লরাজা রঘুনাথ সিংহ। জানা যায়, এই মল্লরাজা ভঞ্জনি রূপী দেবী দুর্গার দর্শন পেয়েছিলেন। আর তারপরই তাঁর এক জমি সংক্রান্ত বিবাদ মিটে গিয়েছিল। তারপরই তিনি এই পুজো শুরু করেন। কথিত রয়েছে, দশমীর দিন মল্লরাজা সৈন্যদের নিয়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই জলকাদায় পালন করেছিলেন বিজয়ার উৎসব। সেই থেকেই এই রীতি মেনেই আজও এই গ্রামে বিজয়ার দিন এমনভাবেই পালন করা হয় উৎসব।





