একজন নারী যে চাইলে কী না করতে পারেন, তার প্রকৃত নিদর্শন তিনি। শিক্ষকতা তাঁর পেশা হলেও, তাঁর নেশা কিন্তু পাহাড় চড়া। সেই নেশা থেকেই ইতিমধ্যেই জয় করে ফেলেছেন পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট থেকে শুরু করে মাকালু, অন্নপূর্ণার মতো শৃঙ্গও। তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করেছেন রাজ্যপাল। সেই টাকা এখনও পান নি তিনি। মাথায় রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার দেনা। সেই কারণে এবার চন্দননগরের বইমেলায় স্টল খুলে জুতো বিক্রি করছেন পর্বতারোহী পিয়ালী বসাক।
পিয়ালী বসাকের দুর্গম শৃঙ্গ অভিযানের কাহিনী শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে বৈ কী! স্কুল শিক্ষিকা হলেও তাঁকে প্রকৃতিই টানে বারবার। আর সেই টানেই বারবার তিনি ছুটে যান পাহাড়ে। কোনও সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য না মিললেও তাঁর শৃঙ্গ অভিযানের ইচ্ছা দমে থাকেনি। সম্পূর্ণ নিজের খরচেই বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গের অভিযানের খরচ জোগাড় করেছিলেন পিয়ালী। সেই ঋণ কিছুটা শোধ হলেও এখন মাথায় ৮০ লক্ষের ঋণের বোঝা। সেই ঋণ না শোধ করতে পারলে পরবর্তী শৃঙ্গ আর জয় করা হবে না তাঁর।
গত অক্টোবর মাসে প্রয়াত হয়েছেন পিয়ালীর মা। বাবা শয্যাশায়ী। একদিকে বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝা আর অন্যদিকে সংসার চালানো, এই দুইয়ের মাঝে পড়ে যেন যাঁতাকলে পিষে যাচ্ছিলেন পিয়ালী। সেই কারণে বাধ্য হয়ে চন্দননগরের বইমেলায় জ্যাকেট, জুতো, পাহাড় থেকে সংগ্রহ থেকে আনা নানান সামগ্রী বিক্রির স্টল দিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ইস্পাত সংঘের আয়োজনে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে চন্দননগর বইমেলা। এই বইমেলা চলবে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্কুল সামলান পিয়ালী আর তারপর বই মেলায় স্টলে গিয়ে বসছেন তিনি।
বিক্রি কি আদৌ হচ্ছে তেমন?
পিয়ালী জানান, না সেরকম বিক্রি নেই। বরং এভারেস্ট জয়ীর সঙ্গে সেলফি তুলতে কিংবা গল্প শুনতে বেশি ভিড় করছেন মানুষ। পিয়ালীর সঙ্গেই স্টলে বসছেন বোন তমালী বসাক। দিদি ও বাবার জন্য ভিন রাজ্যের চাকরি ছেড়ে চলে এসেছেন তিনি। দুজনে মিলে এখন স্টল সামলাচ্ছেন। কিন্তু লাভের অঙ্ক একেবারেই তেমন চোখে পড়ার মতো নয়।





