ভোটের আগে চরম প্রস্তুতি চলছে বাংলায়। গদিতে টিকে থাকার লড়াই যখন মমতার তখন বাংলার মসনদে প্রথমবারের মতো বিজেপির শাসন কায়েম করার লক্ষ্যে মোদী।
আগের সপ্তাহতেই বাম-কংগ্রেসের জোটের ব্রিগেড সমাবেশ দেখেছে বাংলা। চোখে পড়ার মতো ভিড় হয়েছিল।
আর এবার ব্রিগেডের মঞ্চ মাতাতে আসছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলায় বিজেপি সাম্রাজ্য কায়েমের স্বপ্ন সত্যি করার চেষ্টা করবেন এই মঞ্চ থেকেই।
আরও পড়ুন – মাঝরাতে বিজেপিতে যোগদান দাপুটে তৃণমূল নেতার, শক্ত হচ্ছে গেরুয়া ঘাঁটি
রবিবাসরীয় কলকাতা দেখবে মোদীর জনসভা। ১০ লক্ষ লোকের ভিড়ের আগাম হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি শিবির।
এই সভার মধ্যে দিয়েই নীলবাড়ির লড়াইয়ে চূড়ান্ত পর্বের প্রচার শুরু করতে চায় পদ্ম শিবির।
গত লোকসভা নির্বাচনের সময়ও ব্রিগেডে সমাবেশ করেছিলেন মোদী। তবে রাজ্য বিজেপি-র লক্ষ্য সেই সমাবেশকেও যেন রবিবারের জমায়েত টেক্কা দিতে পারে। মোদীর সভাস্থল ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যাবস্থাও করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ব্রিগেড ময়দানে মোট ৩টি মঞ্চ হচ্ছে। মূল মঞ্চ ৪০ ফুট বাই ৭২ ফুট। এটিতে মোদী-সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা থাকবেন। মূল মঞ্চের দু’পাশে ২৪ ফুট বাই ৪০ ফুটের দু’টি মঞ্চ তৈরি হবে। একটিতে দলের অন্য নেতারা থাকবেন এবং মোদীর সমাবেশের আগে প্রথম দুই দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়ে গেলে সেই প্রার্থীরা থাকবেন। । ৭৫টা মেটাল ডিটেক্টর লাগানো গেট থাকবে। লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদীর সভার সময় দর্শকদের জন্যও জার্মান হ্যাঙার ছিল ব্রিগেড ময়দান। কিন্তু এ বার সেটা শুধু মূল মঞ্চে থাকছে। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সকলে যাতে ভাল করে দেখতে ও শুনতে পারেন তার জন্য মাঠের বিভিন্ন জায়গায় এলইডি স্ক্রিন থাকবে l
আরও পড়ুন –Breaking: ভোট যুদ্ধ সেয়ানে সেয়ানে, বিজেপির ব্রিগেডে আসছেন অক্ষয় কুমার!
এই সমাবেশকে বিজেপি এতটাই গুরুত্ব দিচ্ছে যে ২ ও ৩ মার্চের বাংলা সফরও বাতিল করে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রে খবর, সফর বাতিলের পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বকে অমিত এমন নির্দেশও দিয়েছেন যে সমাবেশের এমন চেহারা তৈরি করতে হবে যাতে রাজ্য জুড়ে গেরুয়া হাওয়া তৈরি হয়ে যায়। আর সেই লক্ষ্যে বিজেপি শুধু দক্ষিণ নয়, উত্তরবঙ্গ থেকেও কর্মী, সমর্থকেদর নিয়ে আসতে চায় কলকাতায়।
বঙ্গ বিজেপি দাবি করে জানিয়েছে, কলকাতা ছাড়া হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনার উপরে বেশি দায়িত্ব থাকলেও কর্মী সমর্থকরা আসবেন দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান থেকেও। এ ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলার মধ্যে বীরভূম, নদিয়া থেকেও প্রচুর সমর্থককে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সব জেলা থেকেও ট্রেনে ও বাসে করে আসছেন কর্মীরা। ব্রিগেড সমাবেশকে পাখির চোখ করা বিজেপি শুধু সভা করে প্রচার নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়েও সাধারণ মানুষের কাছে ব্রিগেডে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।
শুক্রবার গোটা দিন চুঁচুড়ার বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের বাড়ি গিয়ে ব্রিগেডে আসার আমন্ত্রণ জানান হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। গত কয়েক দিন ধরে ব্রিগেড সফল করতে নিজের লোকসভা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় সভা ও বৈঠক সেরেছেন লকেট। সবেমাত্র ২২শে ফেব্রুয়ারিই হুগলির সাহাগঞ্জে বড় সমাবেশ করে গিয়েছেন মোদী। এর পরেও হুগলি থেকে মানুষ আসবেন ব্রিগেডে? এমন প্রশ্নের উত্তরে আত্মবিশ্বাসী লকেট জানিয়েছেন, ‘‘শুধু হুগলি জেলা থেকেই দেড় লাখ মানুষ ব্রিগেডে যাবেন। ওই দিন ঐতিহাসিক সমাবেশ হবে ব্রিগেডে।’’





