‘ছাত্র আন্দোলনের নামে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালিয়েছে, ৯৪ জনকে গ্রেফতার, বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা’, জানাল পুলিশ

আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদে আজ, মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল ছাত্র সমাজ। এদিন প্রথম থেকেই আন্দোলন প্রতিরোধ করতে পথে নামে পুলিশ। নবান্নগামী নানান রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। তবে সেই ব্যারিকেড ভেঙেই এগিয়ে যায় মিছিল। সেই আন্দোলনকে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব বলে দাগলেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার।

আজ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয় রাজ্য পুলিশের তরফে। এই বৈঠকেই সুপ্রতিম সরকার বলেন, প্রথম থেকে আন্দোলনকারীরা বলে আসছিলেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা। অথচ এদিন সকাল থেকেই তাঁরা যেভাবে একের পর এক পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙল, পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে রক্তাক্ত করল, তাতে স্পষ্ট ওরা বড় ধরনের কোনও অশান্তি তৈরি করতে চেয়েছিল। তবে পুলিশ ওই প্ররোচনায় পা না দিয়ে ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়েছে”। 

পুলিশ কর্তা জানান, এই নবান্ন অভিযানের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বলেন, “যাঁরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলে বিনা প্ররোচনায় অশান্তি তৈরি করে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও পুলিশকে রক্তাক্ত করে তাদের ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই নেই”।

এদিকে এই নবান্ন অভিযান নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “একটা অরাজক ব্যবস্থা তৈরির জন্য অনেক প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচির নামে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হয়েছে। ছাত্র সমাজের নামে প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখে। পুলিশকে বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করা হয়েছে। ইট ছোড়া হয়েছে। পুলিশ ধৈর্য হারায়নি। পুলিশ ওদের প্ররোচনায় পা দেয়নি। সেজন্যই আরও একটা অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করতে বনধ ডাকা হল”।

আরও পড়ুনঃ নবান্ন অভিযানের ধৃতদের ছাড়াতে লালবাজারের পথে সুকান্ত মজুমদার, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা বিজেপির, লাঠিচার্জ পুলিশের

পুলিশের দাবী, ছাত্র সমাজের নামে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলেও এই আন্দোলনে ছাত্ররা ছিল না। নবান্ন অভিযানে পুলিশি আক্রমণের অভিযোগে আগামীকাল, বুধবার ১২ ঘণ্টা বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি।  এই বিষয়ে কেরালা হাইকোর্টের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করে সুপ্রতিম সরকার বলেন, “বনধ বেআইনি, এটা বিভিন্ন রায়ে আদালত আগেই জানিয়েছে। ফলে বুধবার বাংলা সচব রাখতে পুলিশ সব ধরনের উদ্যোগ নেবে”।

আরও অন্যান্য খবর