সকাল সকাল ট্রেন ধরতে ছুটছেন কেউ অফিসের কাজে, কেউ চিকিৎসার জন্য শহরে। রোজকার মতোই ব্যস্ততা শিয়ালদা স্টেশনে। কিন্তু হঠাৎ যেন তাল কেটে গেল। গেট পেরোনোর আগেই যাত্রীরা লক্ষ্য করলেন, একদল পুলিশ ছুটে আসছে স্টেশনের ভিতরে। অনেকে হতচকিত, কেউ আবার হঠাৎ থেমে পড়লেন। কেউ জানলেন না, কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে। ধীরে ধীরে দেখা গেল, পুলিশের নজর কিছু নির্দিষ্ট যাত্রীর উপর। আর সেই থেকেই ছড়িয়ে পড়ল উদ্বেগ।
রেলস্টেশন এমন একটি জায়গা, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ বোধ করতে চান। কিন্তু যখন হঠাৎ পুলিশ এসে কাউকে দাঁড় করিয়ে দেয়, তার পরিচয় জানতে চায় বা টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষ ভয় পাবেন না তো কী? শুক্রবার সকালে এমনই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন বহু যাত্রী। পুলিশের আচরণ দেখে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন। অনেক যাত্রী আবার পুলিশকে অনুরোধ করেও রেহাই পাননি।
জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক-প্রার্থীরা এদিন শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা এবং সেখান থেকে নবান্ন পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও রকম বিশৃঙ্খলা নয়, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে ডেপুটেশন জমা দিতে চেয়েছিলেন। তবে মিছিল শুরুর আগেই পুলিশ তাঁদের রুখে দেয়। শিয়ালদা স্টেশনের ভিতর থেকেই শুরু হয় ধরপাকড়।
ঘটনার দিন স্টেশনে উপস্থিত থাকা অনেক সাধারণ মানুষও পুলিশি নজরে পড়ে যান বলে অভিযোগ। যাঁদের দেখে পুলিশ সন্দেহ করেছে, তাঁদের থামিয়ে পরিচয় জানতে চাওয়া হয়েছে, কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যাঁরা আদতে কোনও মিছিল বা প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাঁরাও পুলিশের রোষে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে কয়েকজন শিক্ষককে, যাঁরা শুধুই ট্রেনে ওঠার জন্য স্টেশনে এসেছিলেন।
এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডলে তিনি অভিযোগ করেন, “৩০ মে বেআইনিভাবে কলকাতা পুলিশ রেলমন্ত্রকের আওতাধীন শিয়ালদা স্টেশনে প্রবেশ করেছে এবং চাকরিহারা শিক্ষক-প্রার্থীদের টার্গেট করার নাম করে সাধারণ যাত্রীদের হেনস্থা করেছে।” তাঁর দাবি, যাঁরা কোনও প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছিলেন না, তাঁদেরও মিথ্যে অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal Corona Alert: হঠাৎ লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, স্বাস্থ্য ভবনের জরুরি নজরদারির নির্দেশ!
শুভেন্দুর অভিযোগ, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে বিজেপির নবান্ন অভিযানের সময়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টেট প্রার্থীদের প্রতিবাদে— বারবার রেলস্টেশনের ভিতরে গিয়ে পুলিশ যেভাবে আচরণ করেছে, তা রেলওয়ে রুলস ভঙ্গের সামিল। বিরোধী নেতা রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে এই ঘটনার তদন্ত ও হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে লিখেছেন, “যাত্রীদের অধিকার এবং রেল চত্বরের পবিত্রতা রক্ষা করা জরুরি। রাজ্য পুলিশ বারবার গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করছে, এবার সময় হয়েছে এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার।”





