তন্ত্র সাধনায় ব’লি দিতে নিজের ভাইঝিকে অপহরণ, তারাপীঠ থেকে পিসিকে গ্রেফতার করল পুলিশ

তন্ত্র সাধনার জন্য নিজের ভাইঝিকে ভুলিয়ে ভালিয়ে বাড়ি থেকে তারাপীঠ মন্দিরে গিয়ে গেল পিসি। ব’লিদানের সমস্ত প্রস্তুতিও চালাচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে নাবালিকাকে উদ্ধার করল পুলিশ। চারদিন পর বছর ১১-এর মেয়েকে ফেরাল পুলিশ। পিসিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল বোলপুর থানার অন্তর্গত তাতারপুর কলোনি এলাকায় মামনি সরকার নামের এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওইদিন বিকেল থেকেই কোনও খোঁজ মিলছিল না তার। তিনদিন ধরে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের বাড়ি খোঁজাখুঁজি করে নাবালিকার পরিবার। কিন্তু কোনও লাভ হয় না।

শেষ পর্যন্ত ২১ তারিখ বোলপুর থানায় অভিযোগ করে নাবালিকার পরিবার। তার বাবা নীরেন সরকার জানান যে গত বুধবার তার মেয়ে অন্যান্য দিনের মতোই বাড়ির সামনে খেলাধুলো করছিল তাঁর মেয়ে মামনি। কিন্তু সন্ধ্যে গড়াতেই কোনও খোঁজ মেলে না তাঁর। পরিবারের সদস্যরা অনুমান করেন যে তাদের মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ। বোলপুর, শান্তিনিকেতন, শান্তিনিকেতন মহিলা থানা, পাড়ুই থানা-সহ ছ’টি টিম তৈরি করে তল্লাশি শুরু হয় নিখোঁজ নাবালিকার। বোলপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুরজিৎ কুমার দে জানান, পুলিশ কুকুর নামিয়েও তল্লাশি চালানো হয়। অবশেষে লক্ষাধিক পর্যটকের ভিড়ের মধ্যেও শনিবার রাত্রে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে বীরভূমের তারাপীঠ এলাকা থেকে। ওই নাবালিকার পিসি রেখা সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, নাবালিকার পিসি তাকে ভুল বুঝিয়ে তারাপীঠ মন্দিরে নিয়ে যায়। ইউ নাবালিকার পিসি তন্ত্র সাধনার কাজ করেন। ৪২  বছর ধরে তারাপীঠ মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত। তবে নাবালিকাকে নিয়ে কোনও বিপদ ঘটানোর আগেই পুলিশ উদ্ধার করে তাকে। ওই পিসিকে গ্রেফতার করে রবিবার বোলপুর আদালতে তোলা হয়। তাকে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে অত্যন্ত খুশি নীরেন সরকার। বলেন, “আমাকে না জানিয়ে মেয়েকে যে তার পিসি এমনভাবে নিয়ে চলে যাবে, বুঝতে পারিনি। বুঝতেই পারছিলাম না মেয়ে কীভাবে হঠাৎ নিখোঁজ হল। বড় বিপদ ঘটতে পারত। তবে পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করেছে। পুলিশকে কুর্নিশ জানাই”।

RELATED Articles