ত্রাণ নিয়ে জয়নগরের গ্রামে ঢুকতে বামেদের বাধা পুলিশের, ‘গলা টিপে ধরেছে’, দাবী মহিলা কর্মীর

ফের বামেদের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি পুলিশের। ফের একবার জয়নগরের দলুয়াখাঁকি গ্রামে ঢুকতে বামেদের বাধা দেয় পুলিশ। এর জেরে বচসা বাঁধে দু’পক্ষের মধ্যে। পুলিশের দাবী, নতুন করে যাতে কোনও ঝামেলা না হয়, সেই কারণেই বহিরাগতদের গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

আজ, রবিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে জয়নগরের দলুয়াখাঁকি গ্রামে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ নিয়ে গ্রামে যাওয়া হয়। কিন্তু গ্রামে ঢোকার মুখে তাদের আটকে দেয় বারুইপুরের এসডিপিও-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দু’পক্ষের বচসায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বাম কর্মীরা। শুরু হয় ধ্বস্তাধস্তি।

এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে সিপিএম নেকা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের জামা ছিঁড়ে দিয়েছে। পুলিশ তৃণমূলের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়। আমাদের ক্ষেত্রে অতি সক্রিয়”।

তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে দলের এক মহিলা সমিতির নেত্রী মোনালিসা সিনহাও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করেন। তিনি জানান, “আমার তো গলা টিপে ধরেছিল পুলিশ। দলুয়াখাঁকির মহিলাদের পরিস্থিতি খুব কঠিন। তাঁদের এবং এলাকার শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আমরা গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের বাধা দেয় পুলিশ। ওরা শাসকদলের তাবেদারি করছে”।

এই অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ

তবে বামেদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বারুইপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অতীশ বিশ্বাস। তিনি বলেন, “গ্রামের লোক ছাড়া অন্য কাউকেই দলুয়াখাঁকিতে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব নয়। আর সিভিক ভলান্টিয়ার নয়, পুলিশকর্মীরাই আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন”।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর কাকভোরে খু’ন হন জয়নগরের স্থানীয় তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর। তৃণমূল নেতাকে খু’নের অভিযোগে এক দুষ্কৃতীকে পিটিয়ে মারে উত্তপ্ত জনতা। এরপরই দলুয়াখাঁকি গ্রামের একের পর এক সিপিএম কর্মীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর ঘরবাড়ি ছাড়েন একাধিক মানুষ। কিছুদিন আগে থেকে ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন গ্রামবাসীরা। নিঃস্ব গ্রামবাসীদের কাছে ত্রাণের সামগ্রী পৌঁছে দিতে বারবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ছেন সিপিএম নেতারা। এর আগে সুজন চক্রবর্তী, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়দের। পুলিশ বাধা আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকেও। আর আজ, রবিবার ফের বামেদের প্রতিনিধি দলকে বাধা দেয় পুলিশ।  

আরও অন্যান্য খবর