ভোররাতে হাইওয়েতে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এবার এই দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্যোগ নিল ট্র্যাফিক পুলিশ। ভোররাতে লরির চালকদের সজাগ রাখার জন্য তাদের দাঁড় করিয়ে চা-বিস্কুট খাওয়ানোর ব্যবস্থা চালু করল পুলিশ। চা খাওয়ার ফলে চালকদের তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব কেটে যাবে আর গাড়ির গতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মত পুলিশ কর্তাদের।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার ভোররাতে দেউলটির ফুল মার্কেটের ধারে একটি গাড়িতে ফুল তোলা হচ্ছিল। সেই সময় পিছন দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি ট্রাক ধাক্কা মারে সেই গাড়িতে। এর জেরে মৃত্যু হয় ৬ ব্যবসায়ীর আর চারজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।
এই দুর্ঘটনার পরই এক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান রাজ্য ট্র্যাফিক পুলিশের এডিজি। রাতে ট্রাক চালকদের ঘুম কাটানোর জন্য ও বেপরোয়া গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা পুলিশ সুপারদের কিছু নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে খবর। জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে সেখানে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে চেকপোস্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে।
রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, গত শনিবারের সেই দুর্ঘটনার সময় কুয়াশা ছিল। এর জেরে দৃশ্যমানতাও কম ছিল। আর ওই অভিযুক্ত ট্রাকের গতিও ছিল অনেক বেশি। পুলিশের মতে, ওই দুই কারণের জেরেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে হয়ত। তবে এও মনে করা হচ্ছে, ট্রাকের চালক হয়ত সেই সময়ে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, রাজ্য ট্র্যাফিক পুলিশের এডিজি-র নির্দেশ পাওয়ার পরই নানান ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনিতে শীত পড়লে নানান জাতীয় সড়কে বিক্ষিপ্তভাবে ট্রাক দাঁড় করিয়ে ট্রাক চালকদের চা-জল দেওয়া হয়। তবে এবার শীত পড়ার আগেই সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করল রাজ্য ট্র্যাফিক পুলিশ।
এই বিষয়ে এক পুলিশ কর্তা জানান, “বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চালকের চোখ বুজে আসাই রাতে দুর্ঘটনার মূল কারণ। চালকেরা যাতে সজাগ থাকেন, তার জন্য জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক-লরি দাঁড় করিয়ে চালকদের চা খেতে দেওয়া শুরু হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে কথাও বলা হচ্ছে”।






