কথায় কথায় বলতেন ‘ওহ লাভলী’। মুখ্যমন্ত্রী যাকে সম্বোধন করতেন কালারফুল বয় নামে। হ্যাঁ, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) কথাই আমরা বলছি। মদন মিত্র (Madan Mitra) রাজনীতির এক রঙিন চরিত্র। মদন মিত্র (Madan Mitra) মানেই কখনও রাস্তায় বাইক ছোটান, কখনও আবার প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন প্রতিপক্ষকে। কখনও আবার নায়কদের মতো গলা ছেড়ে গান করেন। তাঁর মিউজিক ভিডিও প্রকাশ পেলেই ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়। তার লাইভে আসার খবরে মহিলা ভক্তরা লাইক, লাভে ভরিয়ে দিতেন। কিন্তু এখন সবই অতীত, বর্তমানটা আগের থেকে বেশ অন্যরকম।
এখন কিভাবে দিন কাটাচ্ছেন তিনি? কেমন রয়েছেন? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মদন মিত্র (Madan Mitra) কথা বলেছেন তার বর্তমান জীবন নিয়ে। এখন লোকসভা নির্বাচন চলছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক দফার ভোট গ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি দফার ভোট গ্রহণ পর্ব। তবে মদন মিত্রকে ছাড়া নির্বাচন এটা কি ভাবা যায়। তিনি বলছেন, “এত বড়ো রঙ্গ, এবারে ময়দানে রঙ্গমঞ্চে সেভাবে আমি থাকতে পারলাম না”। প্রিয় কালারফুল বয়ের কি খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী? এর উত্তরে মদন মিত্র (Madan Mitra) বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নাম ঘোরাফেরা করে। আমি যদি মনে করি তিনি রোজ রোজ আমার খবর নেবেন, তবে আমার থেকে মহামূর্খ আর কেউ নেই”।
রাজনীতির ময়দান থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভাইরাল লাইভ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “শারীরিক অসুস্থতাই আসল কারণ, কেন গুটিয়ে নিলাম এর উত্তরে বলতে হবে এটা একটা পার্টি, এটা পরিবার বা পাড়ার ক্লাব নয়। এখানে পার্টি সিদ্ধান্ত নেবে”। এত সক্রিয় একজন নেতা তাকে এভাবে বসিয়ে দেওয়া হল মন খারাপ হয় মদন মিত্রের (Madan Mitra)। তিনি বলছেন, “মন খারাপ হয় না এই কারণেই আমি বেরোলে বুঝি, লোকের দৃষ্টি অন্য কোথাও থেকে চলে গিয়ে সব আমার দিকেই চলে এসেছে। সেলফির বহর দেখে বুঝতে পারি বেশি ঘোরার দরকার নেই।” প্রেম প্রসঙ্গে মদন মিত্র বলছেন, “প্রেমিকা হচ্ছে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো, আসে আর যায়। একটা ঢেউ আসে একটা ঢেউ ভেঙে দেয়। প্রেমিকা মানে যে তোমায় প্রেম করে। অনেকে বলে এত বাজে লোক প্রেম করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রেম পূজার ওপরে তার গীতাঞ্জলি, গীতবিতান লিখে গেছেন, কে বলেছে প্রেম খারাপ”।
রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে কেমন লাগে মদন মিত্রের (Madan Mitra)?
তিনি জানিয়েছেন, “দুঃখ লাগে না। আসলে খুব ব্যস্ত ছিলাম তো, বেকার হয়ে গেছি। বেকারত্বের জ্বালা, যেমন একজন বেকার বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। মা বাবা বলছে রোজগার করিস না, পরের খেয়ে ঘরের মোষ তাড়াচ্ছিস। তেমন আমরা যারা পলিটিশিয়ান আমাদের মনে হয় বেকার হয়ে গেলে কি করি। বেলা আড়াইটা হয়ে যাচ্ছে এখনো কোথাও গেলাম না। অন্য সময় সাড়ে সাতটায় উঠে বেরিয়ে যেতাম। বেরিয়ে গিয়েই হাজারটা ছেলের মধ্যে জিন্দাবাদ বলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, সেটা না হলে রাতে ঘুম হয় না। ঘুমের ওষুধ দিলেও ঘুম আসে না। আমি নিশ্চিত পার্টি ইলেকশনের পরে আমাদের সবাইকে নিয়ে বসবে। আলোচনা করে পার্টি এবার ভাগ করে দিক। এরা নির্বাচন লড়বে, এরা পার্টি করবে, এরা ট্রেনিং শিবিরে চলে যাবে। তাহলে দেখবেন সবাই কাজ পেয়ে যাবে”।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় সিনিয়রদের অবসর নিতে বলেছেন। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মদন মিত্র (Madan Mitra) বলছেন, “নবীনদের তো আসতেই হবে। এই কথাটা বলেছে সেটা এজ (বয়স) বার। হ্যাংলা নরেন্দ্র মোদী খালি বলছে বিজেপিতে এরম কোন নিয়ম নেই। অর্থাৎ ও মৃত্যুর আগে পর্যন্ত থাকবে। কিন্তু আদর্শ থাকতে দেবেনা। অভিষেক তো অপমান করে বলেনি”।
বিজেপি থেকে কখনো অফার আসেনি এ প্রশ্নের উত্তরে মদন মিত্র (Madan Mitra) বলছেন, “ওরা জানে, যতদিন না মমতা ব্যানার্জি আমাকে দল থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে, যতদিন না তৃণমূল কংগ্রেস বলছে তোমার আর প্রয়োজন নেই, সেদিন আমি বলব বিদায়। তবে তার আগে, দল আমায় না তাড়ালে,আমি দলকে ছাড়বো না” রাজ্যপাল প্রসঙ্গে মদন মিত্র বলেন, “একটা রাজ্যপালকে নিয়ে এত বড় অভিযোগ সেই রাজভবনেই মোদী গেলেন। মোদী বুঝতে পারলেন না যে ঘরে উনি শুলেন, সেই ঘরেই মেয়েটার শ্লীলতাহানি হয়েছিল। আপনাদের কোন জাত পাত নেই, লজ্জা নেই। মোদী ঘুরেফিরে বাংলায় আসছে কারণ ওকে রাজ্যপালের চেহারা চাপা দিতে হবে”।
এখনো ডিপ্রেশনের ওষুধ খেতে হয় মদন মিত্রকে (Madan Mitra)। ডিপ্রেশন নিয়ে খানিক রসিকতা করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “আমার ডিপ্রেশন কাটাতে গিয়ে, ডিপ্রেশনের ওষুধই ডিপ্রেসড হয়ে যাচ্ছে। এমন কাউকে থাকতে হবে যাকে দেখে ডিপ্রেশন কেটে যাবে।” মদন মিত্র স্পষ্ট জানান তার ডিপ্রেশন কাটবে একমাত্র রাজনীতিতেই।






