‘সন্ধান চাই’! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পোস্টারে ছয়লাপ এলাকা, নিখোঁজ পোস্টার দিল তৃণমূলই, অন্তর্কলহ দলের মধ্যে?

এলাকাজুড়ে পোস্টারে ছয়লাপ। শনিবার সকাল থেকেই চোখে পড়ছে এই পোস্টার। তৃণমূল বিধায়কের সন্ধান চেয়ে দেওয়া হয়েছে সেই পোস্টার। পোস্টারে অভিযোগ, এলাকায় দেখাই মেলে না তৃণমূল বিধায়কের। সেই বিধায়ককে দেখতে পেলে সন্ধান দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তৃণমূলের তরফেই সাঁটানো হয়েছে সেই পোস্টার।

এই পোস্টার পড়েছে বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মুরারিশায়। তৃণমূল বিধায়ক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই ‘সন্ধান চাই’ পোস্টার দেওয়া হয়েছে তাঁর বিধানসভা এলাকায়। সেই পোস্টারের নীচে যদিও লেখা, ‘তৃণমূল কংগ্রেস সম্মান রক্ষা কমিটি’। তবে জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের এমন কোনও শাখা নেই। সত্যিই কী এই পোস্টার তৃণমূলের তরফেই দেওয়া হয়েছে নাকি বিরোধী শিবিরের কাজ, তা নিয়ে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। তবে অনেকের মতেই, তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই এই পোস্টার।

এই পোস্টারে লেখা, “এই ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম। পেশায় বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক। আগে বিধানসভায় যেতেন লাল পোশাকে, পরবর্তীতে সবুজ পোশাকে। বিধানসভা ভোটের পর থেকে এঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না”। বিধায়কের পরিবারের থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ মিলছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই পোস্টারে।

তবে এই পোস্টার সম্পর্কে বিধায়ক রফিকুল ইসলামের বক্তব্য, “এই ভুইফোঁড়েরা কোন দল থেকে এসেছেন, তা-ও জানি না। এঁরা কেউই তৃণমূলের নন। এলাকার সকলেই জানেন, আমি স্বচ্ছ ভাবমূর্তির বিধায়ক। তাঁরা আমাকে দু’বার জিতিয়েছেন। মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা আছে, তা এলাকার মানুষই জানেন”।

তবে বিধায়কের মতে, এই পোস্টার আসলে একাংশের ‘ষড়যন্ত্র’। যদিও কোনও দলের নাম উল্লেখ করেন নি তিনি। রফিকুলের কথায়, “কিছু স্বার্থান্বেষী লুঠপাট করে খান। তাঁরা নিন্দা করতেই পারেন। তাঁদের নিন্দায় সাধারণ মানুষ টলবেন না”। তাঁর দাবী, তৃণমূল দলগতভাবে তাঁর উপর ভরসা রেখেছে।  

এই পোস্টার সম্পর্কে ত্রিঞ্জমুলের হাসনাবাদ ব্লক সভাপতি এস্কেন্দার গাজি জানাচ্ছে, এই পোস্টার আসলে বিরোধীদের চক্রান্ত। তাঁর কথায়, রফিকুল ইসলাম আগে সিপিএম করতেন। সেই কারণে সিপিএমের তরফেই এই পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।   

আরও পড়ুনঃ ন্যায় বিচারের জন্য তোলা টাকা নির্যাতিতার মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া হোক, অনিকেতদের চাপে ফেলতে নতুন চ্যালেঞ্জ জুনিয়র চিকিৎসকদের নতুন সংগঠনের

অন্যদিকে সিপিএমের স্পষ্ট বক্তব্য, এটা তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। হাসনাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা সিপিএমের প্রাক্তন জেলা কমিটির সদস্য সুবিদ আলি গাজী বলেন, “এটা তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। সামনেই বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। রফিকুল ইসলাম যাতে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রার্থী না হতে পারেন, তার জন্য এই ক্ষোভ তৃণমূলের অন্দরেই। বাম নেতার বক্তব্য, সিপিএম এরকম রাজনীতি করে না”।

RELATED Articles