তীব্র গরমের মধ্যে বারবার লোডশেডিং, ক্ষোভে ফুঁসছে আমজনতা, সমস্যার সমাধানে CESC-কে কড়া বার্তা বিদ্যুৎমন্ত্রীর

রাজ্যজুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। বাইরে বেরোলে এই গরম হাওয়া পুড়িয়ে দিচ্ছে ত্বক। কল খুললেও সে জলও গরম। ‌কোথাও স্বস্তি নেই গরমের হাত থেকে। এমনকি বিকেল হলেও ঠান্ডা হাওয়া বইছে না। সোমবার কলকাতার তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত ৪৪ বছরে রেকর্ড ভেঙে কলকাতার তাপমাত্রা সর্বোচ্চ হয়েছে।গরমে নাজেহাল অবস্থা বঙ্গবাসীর। রবিবারের আগে ছিটেফোঁটাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। এর মধ্যেই যদি বিদ্যুৎ পরিষেবা (Power supply) বিচ্ছিন্ন হয় তবে কি পরিস্থিতি হতে পারে তা কমবেশি সকলেরই জানা। ‌

এসবের মাঝেই রাজ্যবাসীর কাছে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা (Power supply) পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসল রাজ্য। সোমবার বিদ্যুৎ উন্নয়ন ভবনে সিইএসসি ও রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ দফতরের সচিব শান্তনু বসু। এই তীব্র গরমে রাজ্যবাসীর কাছে কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই নিয়ে আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে বলে জানা গেছে।

ওই বৈঠকে সিইএসসি কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত শহরবাসীর কাছে পরিষেবা (Power supply) পৌঁছে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কোথাও কোনো টেকনিক্যাল ফল্ট হলে, কী করণীয়, তাও বলে দেওয়া হয়েছে এদিনের বৈঠকে। সূত্রের খবর, সিইএসসির কাছে ১০০টি জেনারেটর রয়েছে। মন্ত্রী কড়া বার্তা দেন, কোথাও কোনও টেকনিক্যাল ফল্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি লোকবল ও মোবাইল ভ্যানের সংখ্যা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিইএসসিকে।

শুধু সিইএসসি নয়, এই বৈঠকে উপস্থিত ছিল পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমও। মন্ত্রীর কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে তাদেরকেও। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের হাতে রয়েছে ৪৫০টি জেনারেটর। কোথাও কোনও ফল্ট হলে দ্রুত সেই এলাকায় জেনারেটর দিয়ে মানুষের কাছে পরিষেবা (Power supply) পৌঁছে দেওয়ার, নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তীব্র গরমে নাজেহাল পরিস্থিতি রাজ্যবাসীর তাতে বিদ্যুৎ পরিষেবায় যাতে কোন সমস্যা না হয় সেই বার্তাই এদিন অরুপ বিশ্বাস স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য,‌ গত বৃহস্পতিবার কলকাতার বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ (Power supply) বিভ্রাটের অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে। অত্যাধিক গরমে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, সমস্যায় পড়তে হয়েছে শহরবাসীকে। ‌ গড়িয়া, সোনারপুর, সল্টলেক প্রভৃতি সিএসসি এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও, উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতার কিছু অংশে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়। গরম বাড়তেই কারেন্ট অফের মত সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে বেড়ে উঠেছে। তবে তাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিইএসসি। এমনকি কসবা, হরিদেবপুর এলাকাতেও বিদ্যুতের সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোথাও আধ ঘন্টা আবার কোথাও একঘন্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার সমস্যায় পড়তে হয়েছে বাসিন্দাদের। এবার শহরবাসীর এইসব সমস্যা সমাধানেই বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর