নবীন বরণ অনুষ্ঠানে শ্লীলতাহানির অভিযোগ! প্রেসিডেন্সিতে আইসি-এসএফআই সংঘর্ষে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস!

শ্লীলতাহানি—সমাজে এক অতি গুরুতর এবং স্পর্শকাতর সমস্যা, যা নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এমন ঘটনা ঘটে, যা মেয়েদের মনে ভয়, আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা জ্ঞান আহরণের জায়গা, সেখানেও যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, যেখানে স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং নিরাপদ পরিবেশ প্রত্যাশিত, সেখানে এমন ঘটনা ঘটলে তা আরও বড় বিতর্কের জন্ম দেয়।

সম্প্রতি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোস্টেল হোক বা ক্যাম্পাস, ছাত্রীদের নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ফাটল ধরছে বারবার। বহিরাগত প্রবেশ, প্রশাসনের শিথিলতা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘর্ষের ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে বিভেদ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, যার প্রভাব পড়ে পরের দিনও।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ছাত্র সংগঠন ‘আইসি’। অভিযোগ, সেই অনুষ্ঠানের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র অহন কর্মকার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে। অভিযোগ, শুধু শ্লীলতাহানি করাই নয়, সে মারধরও করে এবং মঞ্চের মাইক্রোফোন কেড়ে নেয়। এই ঘটনার জেরে ছাত্র সংগঠন আইসি এবং এসএফআই-এর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষের চেহারা নেয়। উপস্থিত শিল্পীদের অনুষ্ঠান পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ সঞ্চয় করেও শেষ রক্ষা নেই! ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ভারতের অর্ধেক জনগণ!

এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবও পড়তে শুরু করে। এক পক্ষের দাবি, এসএফআইয়ের সদস্যরা অহনকে সমর্থন করেছেন, অন্য পক্ষের অভিযোগ, বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে প্রশাসনের ঢিলেঢালা মনোভাব। বহিরাগত প্রবেশ কীভাবে সম্ভব হল, সে নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। শুক্রবার রাত থেকে উত্তপ্ত থাকা ক্যাম্পাসে শনিবার সকালেও চাপা উত্তেজনা বজায় ছিল।

শিক্ষাঙ্গনে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণত দুটি দিক উঠে আসে— নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘর্ষ। এই ঘটনায় দুটিই প্রকট। ছাত্র সংগঠনের পাল্টা-পাল্টি অভিযোগের মধ্যে আসল বিষয়টি চাপা পড়ে যায় না তো? বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ কি আদৌ বন্ধ করা যাবে? প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে তো? ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষায় আদৌ কড়া পদক্ষেপ করা হবে কি? এই প্রশ্নগুলির উত্তর না মিললে, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ফের ঘটতে পারে, যা গোটা শিক্ষাব্যবস্থার জন্যই এক বড় চ্যালেঞ্জ।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles