রাজনৈতিক মহলে তর্ক-বিতর্ক নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন দল, নেতা ও সংগঠনের মধ্যে মতের অমিল ও মতবিরোধ একটি সাধারণ ঘটনা। কখনও আদর্শগত পার্থক্য, কখনও নেতৃত্বের প্রশ্ন, কখনও বা কৌশলগত কারণে দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এইসব মতবিরোধের মাঝে কখনও কখনও এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এমনই এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও আই-প্যাকের মধ্যে। যদিও এই দুই পক্ষ একসময় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে, কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ফলে সেই সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি তৃণমূলের হয়ে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এখন এই সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ তৃণমূলের প্রবীণ নেতারা।
এই প্রেক্ষাপটেই আই-প্যাককে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি ‘দ্য ওয়াল’ পোর্টালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আই-প্যাককে ‘অসৎ’ ও ‘ঠিকাদার’ সংস্থা বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, রাজনৈতিক দল কীভাবে চলবে, সেটি ঠিক করবে দলের নেতৃত্ব, কোনও ‘ঠিকাদার’ সংস্থা নয়। তাঁর অভিযোগ, আই-প্যাক শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে টাকা তোলে এবং নৈতিকভাবে অসৎ কার্যকলাপ চালায়। প্রশান্ত কিশোর থেকে প্রতীক জৈন, কাউকেই তিনি ছেড়ে কথা বলেননি।
আরও পড়ুনঃ নবীন বরণ অনুষ্ঠানে শ্লীলতাহানির অভিযোগ! প্রেসিডেন্সিতে আইসি-এসএফআই সংঘর্ষে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস!
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, আই-প্যাক আদতে কোনও ভোটকুশলী সংস্থা নয়, বরং তারা ঠিকাদারি ব্যবসা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই সংস্থার কার্যক্রম রাজনীতির মধ্যে দুর্নীতির সুযোগ বাড়ায়। তাঁর মতে, আই-প্যাকের যদি সত্যিই রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের ক্ষমতা থাকে, তাহলে তারা কংগ্রেস বা সিপিআই(এম)-কে জেতানোর চ্যালেঞ্জ নিক! তাহলে তিনি তাদের দক্ষতা স্বীকার করবেন। তবে, তাঁর কথায়, আই-প্যাক আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমার্থক নয়, বরং অভিষেক নিজেই একজন শক্তিশালী নেতা হওয়ার সমস্ত যোগ্যতা রাখেন।
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে যদিও সরাসরি মন্তব্য করেননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তবে তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট—তৃণমূল কংগ্রেসকে কীভাবে চলতে হবে, তা ঠিক করবে দলের নেতৃত্ব, কোনও বাইরের সংস্থা নয়। তাঁর এই বক্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, এই বিতর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে!





