President Droupadi Murmu : দ্রৌপদী মুর্মুর বঙ্গসফরে ‘প্রোটোকল ভাঙা’র অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি! মমতার ব্যাখ্যার মাঝেই রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব শাহী-মন্ত্রকের!

দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে ঘিরে প্রোটোকল মানা হয়েছে কি না—এই প্রশ্ন ঘিরেই হঠাৎ করেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কে কোথায় ছিলেন, কেন কেউ উপস্থিত ছিলেন না—এই সব প্রশ্ন এখন রাজ্য ও কেন্দ্রের রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠানের সীমায় আটকে নেই, বরং তা ধীরে ধীরে বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।

গত শনিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেই অনুষ্ঠানেই তিনি জানান, তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাছে ছোট বোনের মতো এবং তিনি বাংলাকে ভালোবাসেন। তবে হয়তো কোনও কারণে মুখ্যমন্ত্রী রাগ করেছেন বলেই তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি—এমন মন্তব্যও করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

এই ঘটনার পরেই রাজ্যের তরফে স্পষ্ট জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানটি সরকারি ছিল না, বরং সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত। ফলে রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত থাকার কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে সম্মান জানানো হলেও এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক বাড়তেই বিষয়টি নজরে আসে কেন্দ্রের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক মাধ্যমে এই প্রসঙ্গে প্রতিবাদ জানান। এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের তরফ থেকে নবান্নে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরের সময় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা ঠিক কী ছিল এবং প্রোটোকল মানা হয়েছে কি না।

আরও পড়ুন:

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। রবিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে লিখিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। ফলে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন তৈরি করবে কি না, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles