Mamata Banerjee : “ভোটের আগেই ভোট করাচ্ছেন, বড় হনু হয়ে গেছেন!”—ধর্মতলা থেকে মোদিকে সরাসরি আক্রমণ মমতার, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ঝড়!

বাংলার রাজনীতিতে আবারও চড়ছে পারদ। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা ঘিরে রাজ্য–কেন্দ্র সম্পর্ক যে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, তারই প্রতিফলন দেখা গেল কলকাতার ধর্মতলার ধরনামঞ্চে। রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই নানা জল্পনা চলছিল ভোট ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে। সেই আবহেই এদিন মঞ্চ থেকে একের পর এক কড়া মন্তব্য শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

ধর্মতলার ধরনামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। বিশেষ করে SIR প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “ভোটের আগেই ভোট করে দিচ্ছেন! বড় হনু হয়ে গিয়েছেন!” তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের নাম কেটে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলুন মিস্টার ভ্যানিশ কুমার।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মমতার বক্তব্যে উঠে আসে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, “মানুষকে ভোট দিতে দিতে হবে। ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেব না।” তিনি অভিযোগ করেন, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেছে বেছে অনেকের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে মহিলাদের। নিজের পরিবারের একটি উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাড়ির এক মেয়ের বিয়ের পর ঠিকানা বদলানোর কারণে নাকি ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ C V Ananda Bose : ইস্তফার পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন সি ভি আনন্দ বোস! বাংলার রাজনীতিতে কি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেন তিনি?

এদিন বিজেপিকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নেগেটিভ প্রচার চালাচ্ছে এবং বাংলার সংস্কৃতি ও সমাজ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “বিজেপি বিচ্ছিরি প্রচার করছে। ওরা চিরকালই নেগেটিভ।” পাশাপাশি দাবি করেন, রাজ্যে মুসলিম অনুপ্রবেশ নিয়ে বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বক্তৃতার শেষ দিকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগ প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপতির সফরের সময় প্রোটোকল অনুযায়ী রাজ্যপালের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই চাপ তৈরি করা হয়েছিল। মমতার অভিযোগ, দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও এই দাবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবু মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজ্য–কেন্দ্র সম্পর্কের নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

RELATED Articles