টেট দুর্নীতির জেরে অপসারিত হন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। গতকাল, সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। এবার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানাল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। আগামীকাল, বুধবার বিচারপতি লাপিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে এদিন ডিভিশন বেঞ্চে জরুরি শুনানির আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী, মামলা ফাইল করলেও, তা পরে শোনা হবে। গতকাল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মানিক ভট্টাচার্যকে আজ, মঙ্গলবার দুপুর ২টোর সময় আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই মতোই হাজিরা দিতে হবে মানিকবাবুকে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু তথ্য চেয়েছিল আদালত। কিন্তু অভিযোগ, পর্ষদের তরফে সেই নথি পেশ করা হয়নি। উলটে আদালতকে ভুল পথে চালনা করা হয়েছে অভিযোগ। আর এর সম্পূর্ণ দায় মানিক ভট্টাচার্যের, এমনটাই দাবী আদালতের। বিচারপতি বলেন, “আজকে ২৭৮৭ জন আবেদনকারীদের মধ্যে ১ জনেরও নম্বর পুণর্মূল্যায়নের জন্য দাখিল করা আবেদনপত্র আদালতে পেশ করা হয়নি। পর্ষদের এই আচরণ গ্রহনযোগ্য নয়”।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতিকে অপসারণ তো বটেই, এর পাশাপাশি, আদালতে পেশ করা নথি দিল্লিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। আদালতে যে ২৭৮৭ জনের নাম এবং রোল নম্বরের তালিকা নম্বর পুনর্মূল্যায়নের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির সদস্যদের নাম এবং গঠনের দিন সংক্রান্ত নানান তথ্য, এই বিশেষ কমিটির রিপোর্ট, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবং বোর্ডের অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য গুলির প্রিন্ট আউট পেশ করা হয়েছে, সেসব কবে নেওয়া হয়েছে ও তাতে যে স্বাক্ষরগুলি রয়েছে সেগুলিই বা কবে করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখবে দিল্লি ফরেনসিক।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের প্রাইমারি টেটে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালে এই পরীক্ষার প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশিত হয়। পরে ২০১৭ সালে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকা নিয়েই উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। পরীক্ষা না দিয়েই চাকরি পেয়েছেন একাধিক। আপাতত আদালতের নজরদারিতেই এই মামলার তদন্ত করছে সিবিআই।





