ছোট্ট পানের দোকান থেকে প্রাসাদপম বাড়ি, কোটি টাকার হোটেল, গয়নার দোকান ‘কারোর বাপের টাকায় সম্পত্তি কিনিনি’, দাবী তৃণমূল নেতার

পানমান্ডিতে কাজ থেকে আজ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। রয়েছে প্রাসাদপম বাড়ি, গেস্ট হাউস, বড় সোনার গয়নায় শোরুম, ফ্ল্যাট, আরও কত কী! একসময় শাসকদলের দাপুটে নেতা ছিলেন বটে। বর্তমানে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। পূর্ব মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা দিবাকর জানার এই সম্পত্তি নিয়ে জেল রাজনীতি তোলপাড়।

বাম জমানার শেষের দিকে কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি দিবাকরের। এরপর থেকেই যেন ঝড়ের গতিতে উত্থান শুরু হয় তার। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের জেলা পরিষদ সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নানান পদে থেকেছেন তিনি।

২০২০ সালে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর বিজেপিতে যোগ দিলেও তাকে বিজেপির কোনও কর্মসূচিতে অবশ্য দেখা যায় না। কিন্তু বিতর্ক চলছেই তাকে নিয়ে। আর এখন বিতর্ক তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার নয়, বরং তাঁর পাহাড় প্রমাণ সম্পত্তি নিয়ে।

হলুদ রঙের একটি বাড়ি নাম প্রত্যুশা গেস্ট হাউস, সেই বাড়িতেই বাস দিবাকর জানার। চারতলা এই বাড়ি বাউন্ডারি দেওয়া। নানান বহুমূল্য আসবাবে ঠাসা এই বাড়ি। বাড়ির সামনেই একটি জলাশয়, সেখানে ফোয়ারার ব্যবস্থা। সন্ধ্যে হলেই নানান রঙে সেজে ওঠে এই বাড়ি। খাতায় কলমে এই বাড়ির মালিক দিবাকরের স্ত্রী তনুশ্রী জানা।

তবে কান পাতলেই শোনা যায় যে কোটি কোটি টাকা মূল্যের এই বাড়ি মোটেই সৎ পথে তৈরি করেন নি দিবাকর জানা। শুধুমাত্র এই বাড়িটিই নয়, পূর্ব মেদিনীপুরের সোনাঝুড়ি কাঁকটিয়া বাজারে দিবাকরের একটি বিশাল গয়নার দোকান রয়েছে। এছাড়াও তাঁর নামে রয়েছে বেশ কিছু ফ্ল্যাট, জমি, রিসোর্ট।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা জয়দেব বর্মণের অভিযোগ, “দিবাকরের এই বিপুল সম্পত্তি এলাকায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এককালে ঘনিষ্ঠতার জন্য এখনও আমাদের ভালো চোখে দেখে না এলাকার মানুষ। ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যেই মোটামুটি ৫-৬ কোটি টাকার সম্পত্তি কিনেছে দিবাকর”।

এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ নাকোচ করেছেন প্রাক্তন এই তৃণমূল নেতা দিবাকর জানা। প্রাসাদপম বাড়ি নিয়ে দিবাকরের দাবী, “একটাই কথা বলব কারও বাপের টাকায় এই ব্যবসা বা সম্পত্তি কিনিনি৷ আমার পৈতৃক সম্পত্তি এবং মেহনত করেই এসব করেছি৷ তাও কারও যদি আপত্তি থাকে তাহলে সিস্টেম মতন আসুন। সব তথ্য দেব। এর চেয়ে বেশি কিছু বলব না”।

তবে দিবাকর মুখে পৈতৃক সম্পত্তির কথা বললেও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা যায় যে দিবাকরের বাবার একটি ছোট্ট পানের দোকান ছিল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দিবাকর কোন পৈতৃক সম্পত্তির কথা বোঝাতে চাইলেন, তা নিয়েই রয়েছে ধন্ধ।

আরও অন্যান্য খবর