‘চিকিৎসকরা নাকি পরিষেবা দিচ্ছেন না’! গভীর রাতে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে মরণাপন্ন পুলিশ কর্মীর প্রাণ বাঁচালেন প্রতিবাদী চিকিৎসকরাই, মানবিকতা একেই বলে!

আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে দিকে দিকে উঠেছে প্রতিবাদের সুর। কর্মবিরতিতে জুনিয়র চিকিৎসকরা। জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জন্য একমাসে বিনা চিকিৎসায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে এমনটাই দাবী করেছিল রাজ্য। জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ফেরার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। যদিও সেই নির্দেশ মানেন নি চিকিৎসকরা। তাদের মুখে একটাই কথা, তাদের দাবী না মানা হলে, তারা আন্দোলন জারি রাখবেন। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে কর্মবিরতি হলে সত্যিই কী কর্মবিরতিতে জুনিয়র চিকিৎসকরা?

গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেদিন বিকেল থেকে এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য ভবনের সামনেই অবস্থান বিক্ষোভ করছেন তারা। নবান্নের তরফে আলোচনার কথা বলা হলেও তাদের শর্ত মেনে আলোচনা করতে নারাজ নবান্ন। এরই মধ্যে গতকাল, বুধবার গভীর রাতে ঘটল এক ঘটনা। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে প্রতিবাদী চিকিৎসকদের অবস্থান বিক্ষোভে মোতায়েন এক মরণাপন্ন পুলিশ কর্মীর প্রাণ বাঁচালেন এই প্রতিবাদী চিকিৎসকরাই।

অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী এসএসকেএমের রেসিডেন্ট ডিএম বীপ্রেশ চক্রবর্তীর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে সেই চিকিৎসক জানান, “আজ রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্বাস্থ্য ভবনের প্রতিবাদ স্থলে বিধাননগর পুলিশের একজন মহিলা পুলিশ কর্মীর তীব্র হাঁপানি শুরু হয়। ক্রমেই হাঁপানির তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। তিনি প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট অনুভব করেছিলেন। প্রতিবাদী ডাক্তাররা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে পরীক্ষা করে দেখেন। তার সাথে ইনহেলার ছিল না। আমি উন্মত্তভাবে স্লোগানকারী ভিড়ের দিকে দৌড়ে গেলাম। মাইক ধরলাম এবং একটি LABA+ স্টেরয়েড সংমিশ্রণ ইনহেলার চাইলাম। একজন দেবদূতের মতো ভিড় থেকে হাত বাড়িয়ে ইনহেলার দিলেন। আমি এত তাড়াহুড়ো করছিলাম যে তাঁর মুখও দেখতে পাইনি। আমি আবার দৌড়ে গেলাম তাঁকে ইনহেলার দিতে। আমাদের একজন জুনিয়র নিজেই পুলিশ কর্মীর ডোজ ঠিক করে দিয়েছিলেন। তিনি কিছুটা ভালো বোধ করতে শুরু করেছিলেন। এদিকে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমাদের দুই রেসিডেন্ট তাঁকে নিয়ে কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। উপস্থিত সিনিয়র পুলিশ অফিসার আমার কাছে এসে আমার হাতটা শক্ত করে ধরে বললেন, ‘ধন্যবাদ। তোমরা না থাকলে ওকে বাঁচানো মুশকিল ছিল। আবারও ধন্যবাদ।’ আমরা যাই করি না কেন, দিন শেষে আমরা শুধু ডাক্তার”।

আরও পড়ুনঃ ‘রাজনীতির খেলা চলছে, শর্ত দিয়ে কখনও আলোচনা হয় না, রাজনৈতিক ইন্ধনের জন্যই দর কষাকষি করছেন চিকিৎসকরা…’, জুনিয়র চিকিৎসকদের কটাক্ষ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের

আন্দোলনের প্রথম থেকেই পুলিশের সঙ্গে লড়াই জারি চিকিৎসকদের। আর জি করের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। কিছুদিন আগেই লালবাজার অভিযান করে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের হাতে তাঁরই পদত্যাগের ডেপুটেশন জমা দিয়ে এসেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সরাসরি সংঘর্ষ না হলেও পুলিশের বিরুদ্ধে নানান স্লোগান প্রতিনিয়ত শোনা যাচ্ছে চিকিৎসকদের মুখে। যতই সংঘর্ষ থাক, দিনশেষে তারা তো চিকিৎসক। মানুষের প্রাণ বাঁচানোই তাদের কাজ। কর্মবিরতি চললেও মরণাপন্ন কোনও মানুষের চিকিৎসা করতে যে তারা পিছপা হবেন না, তেমন বার্তাই ফের দিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

RELATED Articles