আর জি কর কাণ্ড নিয়ে রহস্য দিনদিন বেড়েই চলেছে। পেঁয়াজের খোলসের মতো বেরিয়ে আসছে একের পর পর বিতর্কে মোড়া কিছু তথ্য। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা নিয়ে একটা প্রশ্ন প্রথম থেকেই ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে সকাল ১০টায় পৌঁছলে এফআইআর দায়ের করতে কেন রাত পৌনে ১২টা বেজে গেল, তা নিয়ে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য পুলিশ। আর এবার এফআইআরে লেখা বয়ান নিয়েও উঠল জোরালো প্রশ্ন!
৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিৎসকের অর্ধনগ্ন দেহ। তাঁর শরীরে একাধিক ক্ষত দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও পুলিশ কেন শুধুমাত্র অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে রাত পর্যন্ত তদন্ত চালিয়ে গেল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এরই মধ্যে গতকাল, শুক্রবার সামনে এসেছে এফআইআরের কাগজ। তাতে লেখা, ‘আননোন মিসক্রিয়েন্ট কমিটেড উইলফুল রেপ উইথ মার্ডার’ যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ‘অজ্ঞাত পরিচয়ের কেউ ইচ্ছাকৃত ধর্ষণ ও খুন করেছে’।
এই ‘উইলফুল রেপ’ বা ‘ইচ্ছাকৃত ধর্ষণ’ নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। আদৌ কী আইনি পরিভাষায় এই ইচ্ছাকৃত ধর্ষণ বলে কিছু হয়? ঘটনার দিন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে টালা থানায় দায়ের হয় এফআইআর। ঘটনাস্থল থেকে থানার দূরত্ব মাত্র ৭৫০ মিটার। তাও কেন এফআইআর করতে এত সময় লাগল? এফআইআরে লেখা, পরিবারের তরফে পাওয়া অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে আবার পরিবারের তরফের অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে, “‘আপনার কাছে একান্ত অনুরোধ, আমার একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিষ্ঠুর নির্যাতনের পর যে হত্যা করা হয়েছে, যে বা যারা এর সাথে যুক্ত, দ্রুত তদন্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক”। তাহলে প্রশ্ন, পুলিশ যদি পরিবারের অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের করে থাকে, তাহলে একজনই যে ধর্ষক বা খুনি, তা কীভাবে ধরে নিল পুলিশ। কারণ অভিযোগপত্রে তো ‘যে বা যারা’ লেখা রয়েছে।
অন্যদিকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, “দেয়ার ইজ় মেডিক্যাল এভিডেন্স সাজেস্টিং ফোর্সফুল পেনিট্রেশন/ ইনসার্সন ইন দ্য জেনেটালিয়া, ইন্ডিকেটিং দ্য পসিবিলিটি অব সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট”। জেনেটালিয়া অর্থাৎ যোনিদ্বার দিয়ে কিছু প্রবেশ করানোর প্রমাণ মিলেছে। যৌন নির্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সরাসরি ধর্ষণের কোনও উল্লেখ করা হয়নি।
এক আন্দোলনকারী চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, কেন দেরিতে এফআইআর দায়ের হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তে কী পাওয়া যাচ্ছে, তা বুঝেই এফআইআর লেখা হয়েছে। কিন্তু তাহলে তো প্রশ্ন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সরাসরি ধর্ষণের কোনও উল্লেখই হয়নি, তাহলে পুলিশ কীভাবে এফআইআরে লিখে দিল যে ‘উইলফুল রেপ’ হয়েছে আর তা একজনই করেছে! সূত্রের খবর, এই সমস্ত দিকে নজর রেখেই তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। এফআইআরের বয়ানে এমন অসঙ্গতি কেন, তা কী ধরা পড়বে? আদৌ কবে জট খুলবে এই রহস্যের? উত্তর এখনও অজানা!





