একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। সেই সময় সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠীর বিদায় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দুষেছিলেন তিনি। কিন্তু বিজেপির টিকিটে জিততে পারেন নি তিনি। ফলে মোহভঙ্গ হয় তাঁর। ফের তৃণমূলে ফিরতে চাইলেও, তা এখনও হয়নি। এবার সিঙ্গুর আন্দোলনের মামলা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে।
এবার তিনি বলেন, “টাটা সিঙ্গুর ছেড়ে চলে যাক, এটা কখনই চাইনি। টাটা চলে যাওয়ায় জন্য সিঙ্গুর-সহ রাজ্যের ক্ষতি হলেও তার জন্য বর্তমান সরকার দায়ী নয়। যদি কেউ দায়ী হয়ে থাকে তাহলে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার”।
রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের কথায়, “আমরা সিঙ্গুর আন্দোলনকারী হিসাবে তখন চেয়েছিলাম ৬০০ একর ছবিতে টাটাদের কারখানা হোক। বাকি জমি কৃষকদের ফেরত দেওয়া হোক”।
সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর মামলায় ১৫ বছর পর ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য সরকার। আর্বিট্রাল ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে সিঙ্গুরে কারখানা না হওয়ায় এবার টাটা মোটরসকে ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রাজ্যকে। সেই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ শানাচ্ছে বিরোধীরা। এমন সময় মমতার পাশে দাঁড়ালেন মাস্টারমশাই।
তাঁর বক্তব্য, “ট্রাইবুনালের যে রায় টাটাদের দিক থেকে তা যুক্তিসঙ্গত কারণ তাদের প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি রাজ্য সরকার মানবে কিনা সেটা সম্পূর্ণ সরকারের ব্যাপার। কারণ বর্তমান সরকার বা বর্তমান শাসক দলের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই । এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকার আদালতেও যেতে পারে বিষয়টা সম্পূর্ণ বর্তমান রাজ্য সরকারের ব্যাপার”।
যদিও একুশের নির্বাচনের আগে এই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যই বলেছিলেন, “টাটা চলে গিয়েছে সিঙ্গুর আন্দোলনের ফলেই। টাটার কাছে এই প্রস্তাব না যাওয়ায় তারা কী করে বুঝবে সমঝোতা হয়েছে? ফলে তার প্রত্যাখ্যান বা গ্রহণ কোনও প্রশ্নই আসেনি”।
তবে প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেছেন, “আমি টাটাকে তাড়াইনি। সিপিএম তাড়িয়েছে। ওরা জোর করে জমি নিতে গিয়েছিল। আমরা ফিরিয়েছি”।





