‘কোনও অন্যায় করিনি, দল অবশ্যই পাশে আছে’, দলের প্রতি অগাধ আস্থা নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। এতদিন ছিলেন সিবিআই হেফাজতে। আজ, শনিবার আদালতে পেশ করা হয় তাঁকে। দলের প্রতি নিজের গভীর আস্থার কথা জানালেন বড়ঞা বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। তাঁর কথায়, দল তাঁর পাশেই রয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির এজেন্ট হিসেবে পরিচিত কৌশিক ঘোষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিবিআই। ৬৫ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল বিধায়ককে। বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন তিনি নিজের দুটি ফোন পুকুরে ফেলে দেন। দেড় দিন পর উদ্ধার হয় একটি ফোন। জীবনকৃষ্ণকে গ্রেফতার করার পর আরেকটি ফোন উদ্ধার হয়। সেই দুই ফোন থেকে প্রচুর তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

আজ, শনিবার রুটিন চেক আপের জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূল বিধায়ককে। এদিন সাংবাদিকরা জীবনকৃষ্ণকে প্রশ্ন করেন যে দল তাঁর পাশে রয়েছে কী না। বেশ বিরক্তির সুরে বিধায়ক বলেন, “আমি যে দুর্নীতিতে যুক্ত, তা এখনও প্রমাণ হয়েছে”?

এরপর মাত্র দু’টি শব্দের সাহায্যে তৃণমূলের প্রতি আস্থা রেখে জীবনকৃষ্ণ বলেন, “দল অবশ্যই পাশে আছে”। তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “চোরের দল চোরের পাশে থাকবেই”।

বলে রাখি, অতীতে এই নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে। পার্থর গ্রেফতারির পর তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে তৃণমূল। দল থেকে বহিষ্কার করা হয় পার্থকে। এর পাশাপাশি মন্ত্রিত্ব থেকেও সরানো হয় পার্থকে।

নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুন্তল ঘোষের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করেছে তৃণমূল। তাদেরও বহিষ্কার করা হয়েছে দল থেকে। তবে মানিক, জীবনকৃষ্ণদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি তৃণমূল নেতৃত্ব। গরু পাচারকাণ্ডে ধৃত অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধেও এখনও কোনও পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি ত্রিনমুলকে। এমন আবহে এবার জীবনকৃষ্ণ সাহা জানিয়ে দিলেন যে, দল তাঁর সঙ্গেই রয়েছে।

RELATED Articles