অদম্য ইচ্ছাশক্তি! স্বামী কেটে দিয়েছেন ডানহাত, চারদিনের মাথায় হাসপাতালের বিছানাতে বসেই বাঁ হাতে কলম ধরে লিখলেন রেণু

সরকারি হাসপাতালে নার্সের চাকরি পেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন এবার  হয়ত জীবনটা একটু ভালোভাবে কাটবে। কিন্তু কপালে সেই সুখ বোধ হয় ছিল না। স্ত্রী সরকারি চাকরি পেয়েছে, এই ভেবে, একরকম হীনমন্যতায় ভুগে স্ত্রীর ডানহাতের কব্জি কেটে দিয়েছিলেন রেণুর স্বামী। ডানহাতে আর লিখতে পারবেন না রেণু।

কিন্তু রেণুদের দাবিয়ে রাখা এতটাই সহজ নাকি। হার মানবেন না তিনি কোনওমতেই। তাই তো ডানহাত কাটা যাওয়ার চারদিনেই মাথাতেই হাসপাতালের বিছানাতে শুয়েই বাঁ হাতে হাতেখড়ি নিলেন রেণু নিজেই। বাঁ হাতেই লিখে ফেললেন নিজের নাম ও ঠিকানা। হ্যাঁ, লেখা আগের মতো হচ্ছে না ঠিকই, তবে মনের জোর হারান নি তিনি। ধীরে ধীরে তিনি যে সক্ষম হয়ে উঠবেন, তা রেণুর দৃঢ় বিশ্বাস।

রেণু বললেন, “আমার স্বামী ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেছিল। ওর দায়িত্ব ছিল জীবনে আমাকে এগিয়ে যাওয়ায় সাহায্য করা। কিন্তু ও আমাকে পিছিয়ে দিতে চেয়েছিল। তবে আমি থামার মেয়ে নই। আরও এগিয়ে যেতে চাই”।

রেণু আরও বলেন, “আমার সঙ্গে সরাসরি সরকারের কোনও প্রতিনিধির যোগাযোগ হয়নি। তবে সংবাদমাধ্যমে জেনেছি, চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা হবে। আমি চাই, আমার স্বামী এবং ওর দুই বন্ধুকে ধরে তাড়াতাড়ি শাস্তি দেওয়া হোক। বিষয়টিতে যদি মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন, তা হলে ভাল হয়। আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই”।

রেণুর এই হার না মানার অদম্য জেদ থেকে তাঁর এক সহকর্মী বলেন, “ও শক্ত মনের মেয়ে। ও জিতবেই। ওকে এই লড়াই জিততেই হবে”।

হ্যাঁ! জিততেই হবে রেণুকে। একথা নিজেও বারবার বলে চলেছেন তিনি। দাঁতে দাঁতে চেপে তাই সমস্ত যন্ত্রণা সহ্য করেও সমানে লড়ে যাচ্ছেন রেণু। আসলে রেণুরা হার মানে না। কোনও পরিস্থিতিই রেণুদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। সেকথা যেন আজ ফের প্রমাণিত।

RELATED Articles

Leave a Comment