‘টাকা, সোনা সব বের কর’, খোদ পুলিশকর্মীর বাড়িতেই ডাকাতি, প্রতিবেশীকে কো’পা’নো হল ভোজালি দিয়ে

ফের এক পুলিশকর্মীর বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতি দুষ্কৃতীদের। গতকাল, শনিবার রাত আড়াইটে নাগাদ এক পুলিশকর্মীর বাড়ি লুটপাট চালায় ডাকাতের দল। মারধর করা হয় গৃহকর্তাকে। তাদের চিৎকার শুনে এক প্রতিবেশী যুবক এলে তাঁকে ভোজালি দিয়ে এলোপাথাড়ি কো’প বসানো হয়। এরপরই চম্পট দেয় ডাকাতের দল।

কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা?

এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে। সেখানকার ছোড়া কলোনির কারগিলপাড়ার বাসিন্দা হলেন সুশান্ত বিশ্বাস। তিনি পেশায় পুলিশকর্মী। হাওড়া কমিশনারেটে কর্মরত তিনি। গতকাল, শনিবার তাঁর বাড়িতেই লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীর দল। তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।

সুশান্তবাবুর স্ত্রী জানান, “রাত তখন প্রায় দেড়টা বাজে। দরজায় ঠকঠক আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু তখন দরজা খুলিনি। তার পর ফের রাত দুটো নাগাদ আবার দরজায় কেউ ঠকঠক আওয়াজ করে। আমরা ভাবি কেউ আমাদের বিরক্ত করার জন্য ঠকঠক করে। এর পর আমার স্বামী দরজা খুলতেই মুখঢাকা বেশ কিছু ডাকাত ঘরে ঢুকে পড়ে। হাতে অস্ত্রশস্ত্র ছিল। ওরা প্রথমেই আমার স্বামীকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। আমাকে বলে সোনা, টাকা যা আছে বের করে দে।  ওরা নিজেরাই ঘর লণ্ডভণ্ড করে নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং তিন ভরি সোনার গয়না লুট করে নেয়”।

এই ঘটনার সময় তাদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসেন এক প্রতিবেশী যুবক। দুষ্কৃতীদের সামনে পড়ে যান তিনি। সেই সময় ওই যুবককে ভোজালি দিয়ে কো’পা’য় ডাকাতরা। এরপরই পালায় ওই দল। ওই যুবকের অবস্থা সংকটজনক। এই ঘটনায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

এই ঘটনার খবর শুনে আজ, রবিবার সকালে ওই এলাকায় যান জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ। পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তিনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএসপি বীরেন্দ্র কুমার পাঠকও। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত ডাকাতের দল ধরা পড়ে নি।

বলে রাখি, এই সপ্তাহ দুয়েক আগেই আউশগ্রাম থানার থেকে অনতিদূরেই এক পরিবারের সদস্যদের বেঁধে রেখে সর্বস্ব লুঠ করে পালায় ডাকাতের দল। লক্ষাধিক টাকার বিদেশী মুদ্রা থেকে শুরু করে নগদ টাকা, লক্ষ লক্ষ টাকার সোনাগয়না নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনার ১৫ দিন না কাটতেই ফের পুলিশকর্মীর বাড়িতেই দুঃসাহসিক ডাকাতি।  

RELATED Articles