কিছুদিন আগেই বেশ ভাইরাল হয় ‘এমএ চায়েওয়ালি’ টুকটুকি দাসের কথা। ইংরেজিতে এমএ পাশ করার পরই হাবড়া স্টেশনে দু’নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান করেছিল সে। কিন্তু তাঁর সেই দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল আরপিএফ।
পড়াশোনা করে ভালো ডিগ্রি অর্জন করেও আজকাল চাকরি জোটে না তরুণ প্রজন্মের। সুখ স্বাচ্ছন্দ্য দূর, ভালোভাবে পড়াশোনা করে পাশ করে একটা চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন ছেলেমেয়েরা। এর জেরে হতাশা গ্রাস করছে তাদের। কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি টুকটুকি। চাকরি খোঁজা ছেড়ে চায়ের দোকান খুলে ফেলে সে।
হাবড়ার শ্রীচৈতন্য কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক হওয়ার পর রবীন্দ্রভারতী থেকে এমএ পাশ করেন টুকটুকি। কিন্তু সরকারি চাক্রিত দূর ভালো বেসরকারি চাকরিও ভাগ্যে জোটে নি তাঁর। এই কারণে চাকরির আশা ছেড়ে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান খুলে ফেলে টুকটুকি। স্টলের গায়ে লেখা, ‘এমএ পাশ চায়েওয়ালি’। মুহুরতেই ভাইরাল হয়ে যায় তাঁর সেই চায়ের দোকান।
এরপরই হাবড়ার বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক টুকটুকিকে একটি দোকান করে দেওয়া কথা বলেন। সেইমতোই হাবড়া স্টেশনের ২ ও ৩ নম্বর স্টেশনের সংযোগস্থলে টিনের চাল দেওয়া একটি অস্থায়ী দোকান করে দেওয়া হয়। তবে পুরসভার তরফে এখনও পর্যন্ত তাঁকে দোকানটি হ্যান্ডওভার করা হয়নি।
এরই মধ্যে গতকাল, বুধবার আরপিএফ কর্মীরা এসে টুকটুকির সেই নতুন সাধের দোকান ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ। স্টেশনের উপর অন্যান্য দোকান থাকলেও শুধুমাত্র তাঁর দোকানটিই ভাঙা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এক আরপিএফ কর্মী জানান যে স্টেশনের উপর নতুন করে কোনও দোকান দেওয়া যাবে না। যেসব দোকান আগের থেকে রয়েছে, সেগুলিই থাকবে। এই কারণেই দোকানটি ভাঙা হয়েছে।
এই দোকান ভাঙা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এদিন স্টেশন চত্বরে তৃণমূলের তরফে মিছিল করা হয়। বিক্ষোভ দেখাননহ্য আরপিএফের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান হাবড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক নারায়ণ সাহা। ভাঙচুর করা সেই দোকান এদিন রাতে ঘুরে দেখেন তিনি।
প্রথম থেকেই কঠিন ছিল টুকটুকির লড়াই। উচ্চশিক্ষিত হয়েও তাঁকে বেছে নিতে হয়েছিল চা বিক্রির মতো কাজ। সেই কাজে যদিও বা একটু সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছিল সে, কিন্তু এরই মধ্যে স্বপ্নভঙ্গ হল এমএ পাশ মেয়েটির। দোকানের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে গেল তাঁর স্বপ্নও।





