রুদ্রনীল ঘোষকে (Rudranil Ghosh) আর দেখা যায় না ইন্ডাস্ট্রিতে। তিনি এখন রাজনীতির ময়দানেই ব্যস্ত। দলবদলের তকমা তার গায়েও লেগেছে। চিরকালই স্পষ্ট বক্তা তিনি। রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত মন্তব্য কাউকেই ছাড় দেন না তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ খুললেন রাজনীতির ময়দান নিয়ে। সেখানে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে পিছপা হননি অভিনেতা (Rudranil Ghosh)।
ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের রাজনীতির ময়দানে যোগ দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই বহু জায়গায় ভুল কিছু মন্তব্য করে বসছেন। সেই মন্তব্য কখনো হয়ে উঠছে হাস্যকর আবার কখনো কটুক্তির। এ প্রসঙ্গে রুদ্রনীল (Rudranil Ghosh) বলছেন, “শিল্পীদের ভূমিকা চিরকাল ছিল, আছে। তৃণমূল পছন্দ করে এমন শিল্পী, নুসরাত জাহান কিংবা রচনা ব্যানার্জীর মত শিল্পীদের, যারা সমাজ সম্পর্কে কম জানেন। বেশিরভাগ বাড়ির মা বোনেরাই ১৪৪ ধারা মানে কি বলতে পারবেনা, তবে আমি ট্রোল করার সময় হাসবো। তৃণমূল সেইসব অভিনেতা-অভিনেত্রীদের টিকিট দেন না যারা নিজের কাজের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য মানুষদের দুঃখ কষ্ট বুঝবে। সমাজের নিয়মকানুন জানেন, এমন লোকেদের টিকিট দেওয়া হয় না। এমন লোকেদের টিকিট দিলেই তারা ভালোভাবে কাজ করবে। আর কাজ করতে গেলেই দেখতে পাবে নুসরাত জাহানের এলাকা নুসরাত জাহান চালাত না। চালাতো শেখ শাহজাহান, চালাতো সন্দেশখালির বাদশা”।
অভিনেতা অভিনেত্রীদের রাজনীতির ময়দানে নেমে অকপট অস্বস্তিকর মন্তব্য মোটেই পছন্দ করেন না রুদ্রনীল (Rudranil Ghosh)। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, “আগে যেখানে মিমি চক্রবর্তী ছিলেন এখন সেখানে সায়নী এসেছেন, ওই এলাকা কি মিমি চক্রবর্তী চালাতেন। ওই এলাকা চালাতেন তৃণমূলের কথায় আরাবুল ইসলাম, শওকত মোল্লা। যাতে ওরা পাবলিকের থেকে আদর না খায় তাই মুখ্যমন্ত্রী জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছে। রচনা দি আমার প্রফেশনের সিনিয়র অভিনেত্রী। উনি বলছেন ভোটে জিতলে আমি সবাইকে দিদি নাম্বার ওয়ানে নিয়ে যাব। উনি কি ভোটে দাঁড়িয়েছেন দিদি নাম্বার ওয়ানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ওনার কথায় স্পষ্ট, একজন সাংসদ হিসেবে ওনার কেন্দ্রে কি কি সমস্যা তিনি জানেন না। তৃণমূল জানায়নি আর তারও জানবার ইচ্ছা হয়নি। সাংসদ হিসেবে তার কি কর্তব্য এবং হুগলিতে কি কি প্রয়োজন তা তিনি জানেন না। তাই এসব ধোঁয়া ধোঁয়া কথা বলে উনি নিজে ট্রোল হচ্ছেন। বিরোধীদলের হয়ে দাঁড়িয়েছেন আমি তুলোধোনা করতেই পারি। তবে উনি যেভাবে হারবেন সেটা দেখে আমার খারাপ লাগছে।”
নুসরাত জাহান রবীন্দ্রজয়ন্তীতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানাতে “আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে” এই লেখাটি পোস্ট করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই এর জেরে ট্রোলের শিকার হন অভিনেত্রী। এ প্রসঙ্গে রুদ্রনীল (Rudranil Ghosh) বলছেন, “যারা হেসেছিল নুসরাতের বক্তব্যে তারা জানে ১৭৪ ধারা কি? যারা সরকারি চাকরিজীবী তাদের চাকরির সংক্রান্ত একটি ধারা হচ্ছে ১৭৪ ধারা। সেটাই অনেকে জানেন না। নুসরাত জাহান ১৪৪ কে ১৭৪ বার মা মাসি করে দিয়েছে। যে জানবে না তাই জন্য তাকে আনা। যে জানে না সংসদ হিসেবে আমি কত টাকা পাবো, কেন্দ্র থেকে এলাকার জন্য পাঁচ কোটি টাকা পাবো। টাকা দিয়ে আমি এলাকার কি কি উন্নতি করব সেটা জানেন না। তিনি তার পছন্দে কোনোভাবেই উন্নয়ন করতে পারেন না। স্কুল বানানো দরকার, সেখানে গিয়ে বলা হচ্ছে একটা ক্লাব বানিয়ে দিন। হতেই পারে কেউ নিজের জীবিকাকে এত ভালবাসে, যে সে জীবিকার বাইরে আর কিছু জানেন না হতেই পারে তাতে তো কোন অপরাধ নেই। যাতে তারা কোন প্রশ্ন না করে এমন প্রার্থীদের খুঁজে আনেন তৃণমূল। তৃণমূলদের দেখে শিল্পীদের বিচার বুদ্ধি মানুষ যেন বিবেচনা না করেন।”
কেন রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসা হয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুদ্রনীল (Rudranil Ghosh) বলছেন, “সিপিএমের হয়ে দাঁড়িয়েছে দেবদূত ঘোষ, আরো অনেকেই দাঁড়িয়েছে। সমস্যা হয়েছে মিডিয়া মিমি, নুসরতদের দেখাতে বেশি পছন্দ করছে। এদের মুখ দিয়ে যখন কোন মন্তব্য বেরিয়ে আসছে তখন সবাই হাসছে। ভাবছে সব শিল্পীরাই এমন। এমন নয় যে আমাকে রাজনীতি করতে গেলে ২৪ ঘন্টা রাজনীতির ভাত খেতে হবে। রাজনীতি একজন কৃষক করবেন ভাই, মা-বোনেরা, সকলে করবেন। সোসাইটির সবাই মিলে এসে যখন রাজনীতি করবেন, তবে রাজনীতি সমৃদ্ধ হবে। সব পেশার মানুষটা যদি রাজনীতিতে থাকে তবেই বলতে পারবে তার পেশার অসুবিধাগুলো কি কি। তারাই বলতে পারবে মানুষকে কিভাবে সরকার ভালো রাখতে পারবে। এই কারণে সকল পেশার মানুষদের নিয়ে আসা হয় রাজনীতির ময়দানে।”






