রুদ্রনীল ঘোষকে (Rudranil Ghosh) আর দেখা যায় না ইন্ডাস্ট্রিতে। তিনি এখন রাজনীতির ময়দানেই ব্যস্ত। দলবদলের তকমা তার গায়েও লেগেছে। চিরকালই স্পষ্ট বক্তা তিনি। রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত মন্তব্য কাউকেই ছাড় দেন না তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ খুললেন রাজনীতির ময়দান নিয়ে। সেখানে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে পিছপা হননি অভিনেতা।
তৃণমূলের ইতিহাস নিয়ে তুলোধোনা করেছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। তিনি জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে রাজীব গান্ধীকে সম্মান দিয়ে যুবনেত্রী হয়েছিলেন। তারপর যে কংগ্রেসের পুকুরে জন্ম নিলেন, তাকেই বলেছেন পচা ডোবা, পচা ডোবা থেকে বেরিয়ে উনি বিজেপির মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হলেন। তারপর নিজেই নিজের দল তৈরি করলেন। বিভিন্ন রং উনি মেখেছেন। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তো গিরগিটি টিকটিকি বলা যাবে না, ইনকাম বন্ধ হয়ে যাবে। মার খাবে, বাড়িতে পুলিশ আসবে। মানুষ যে কষ্টে আছে সেটা আমাদের বলে, জানে আমরা হিংসাত্মক (Rudranil Ghosh)নই। যারা এর আগে কংগ্রেসকে ভোট দিতেন, ৩৪ বছর ধরে লাল রঙ গায়ে মাখলেন। আবার ২০১১ থেকে সবুজ আবির মাখলেন, ওই ভোটারই ২০১৮ থেকে পশ্চিমবঙ্গের অর্ধেক মানুষ গেরুয়া রঙ গায়ে মাখলেন। এই ২০২৪ এ আবার অর্ধেকের বেশিজন গেরুয়া রং গায়ে মাখবেন।”
তৃণমূলকে কটাক্ষ করে একই সুতোয় বেঁধেছেন সিপিএমকেও। তিনি (Rudranil Ghosh) বলছেন, “প্রবল সৎ, কমরেড সিপিএম স্লোগান দিত ‘গালি গালি মে সোর হে, রাজীব গান্ধী চোর হে’। এরাই রাহুল গান্ধীর বাবাকে চোর বলেছে। এরাই বলেছিল যে ব্রিটিশদের পর কংগ্রেসে এসে দেশটাকে বেচে দিয়েছে। আগে বলতো কংগ্রেস দেশ বেচেছে, এখন বলছে বিজেপি দেশ বেচেছে। আমরা বলছি কোন লোকটাকে বেচেছি, সেই লোকটাকে দেখান তখন আর দেখাতে পারছে না। এরা বলতো কংগ্রেস আমাদের কর্মীদের মেরেছে। আমাদের কমরেডদের খুন করা হয়েছে। কংগ্রেস আমাদের খুনের রক্তে ভাত মেখে খেয়েছে, এরাই কংগ্রেসের নেতাদের চোর বলেছে। তারপর এরা কংগ্রেসের সাথে কোলাকুলি করছে।”
পঞ্চায়েত নির্বাচন ও লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে তৃণমূলের কারসাজি প্রসঙ্গে তিনি (Rudranil Ghosh) বলছেন, “যে তৃণমূল পঞ্চায়েতে কংগ্রেসকে খুন করল, সিপিএম কর্মীদের খুন করল, সে তৃণমূল দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেসের সাথে ইন্ডি জোট করে কোলাকুলি করছে। আর কলকাতায় এসে গালাগাল দিচ্ছে। আমার নাম ধরুন টুকাই, এই মোড়ে দাঁড়িয়ে টুকাই, দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে বলছে বুবাই। এটা কি কখনো হয়। যারা রোজ রং পাল্টাচ্ছে, মত পাল্টাচ্ছে, আদর্শ পাল্টাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রত্যেকটা সময় নিজেদের ভালো থাকার জন্য, নিজেদের মতামত পরিবর্তন করবে কিনা, তার অধিকার রয়েছে। তাই প্রত্যেকবার ভোটের রেটিও পরিবর্তন হয়। যারা কংগ্রেসকে ভোট দিতেন, সিপিএম, তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে, আবার গেরুয়াকে ভোট দিয়েছে। এখন অর্ধেক গেরুয়া অর্ধেক সবুজ হয়ে রয়েছে। ২০২৪ এ দেশময় গেরুয়া হবে। যাদের বিরুদ্ধে লড়ছি, তাদের সাথেই জোট করছি সেটা আর গিরগিটি থাকে না রামধনু হয়ে যায়।”





