বিধানসভার পর ফের রাজ্যে বেজেছে ভোটের বাদ্যি। এই মাসেই রয়েছে কলকাতায় পুরভোট। ভোটের জন্য নানান দল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এর জেরে নানান দলের মধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাচ্ছে। ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে কোথাও কোথাও।
তবে মঙ্গলবার বিজেপির ভার্চুয়াল বৈঠকে যে ঘটনা ঘটল, এর জন্য হয়ত কেউই প্রস্তুত ছিল না। বৈঠক চলাকালীনই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই সব ভাটের বৈঠকে আমাকে ডাকবেন না”। এই বলেই বৈঠক ছেড়ে চলে যান তিনি।
জানা গিয়েছে, এদিনের এই বৈঠকে পুরভোট নিয়েই আলোচনা চলছিল। রূপা ছাড়াও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা দলের সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে অংশ নেন বিজেপির অন্যান্য নেতারাও। কিন্তু বৈঠক চলাকালীন আচমকাই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান রূপা। তাঁর এই ব্যবহার মোটেই ভালো চোখে দেখছে না বঙ্গ বিজেপি। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে আজই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হবে।
তবে ঠিক কী কারণে রূপা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তা স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে তাঁর এক পোস্ট থেকে মনে করা হচ্ছে যে পুরভোটে প্রার্থী নিয়েই তাঁর এই ক্ষোভ।

নিজের এই পোস্টে দুর্ঘটনায় বিজেপি কাউন্সিলর তিস্তার মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তুলেছেন রূপা। তাঁর দাবী, “তিস্তার মৃত্যু যে নিছক দুর্ঘটনা নয়, তা বেশ বুঝতে পারছি। আমি গৌরবের পাশে থাকব”। তিস্তার স্বামীর নাম গৌরব। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গৌরবকে পুরভোটের টিকিট দেওয়া হয়নি বলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রূপা।
উল্লেখ্য, সড়ক দুর্ঘটনায় বিজেপি কাউন্সিলর তিস্তার মৃত্যুর পর রাহুল সিনহা মৃতদেহের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর দাবী ছিল, এর পিছনে অন্য কিছু হয়ত রয়েছে। এবার রূপা সরাসরি দলের অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তুললেন।
সম্প্রতি সুব্রত মুখোপাধ্যায়ে মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় রূপার একটি পোস্ট করেন যা দলকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। তিনি লিখেছিলেন, ‘”তিস্তাকে নিয়েছ বস্। কিছু তো ফেরত নেবে মা কালী”। তাঁর এমন মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। তিনি আরও দাবী করেন, “২০২১ সালের নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগদান করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ডিল পছন্দ হয়নি ওঁর”। রূপা লেখেন, “এ সব কথা আমি বলি না। নীরবই থাকি”। তবে তাঁর এমন মন্তব্যের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব সহমত পোষণ করেনি।





