জীবন যখন হঠাৎ থমকে যায়, তখন কেবল রোজগার নয়, আত্মসম্মানও প্রশ্নের মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন স্কুলে পড়ানোর পর হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় ঠিক তেমনই সংকটে পড়েছেন বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা। কারও সংসার চলছে বাধ্য হয়ে টিউশন করে, কেউ আবার বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু মনে প্রাণে তাঁরা আজও শিক্ষকই। তাই নিজেদের অধিকার ফেরত পেতে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন।
বেশ কিছু মাস ধরে রাজপথে নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কখনও কোর্টের দরজা, কখনও রাজভবনের সামনে, আবার কখনও করণাময়ীর সেন্ট্রাল পার্কে অবস্থান বিক্ষোভ। এবার তাঁরা মুখোমুখি হতে চাইলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর। বিশ্বাস, একমাত্র তিনিই পারেন সমস্যার সমাধান করতে।
রবিবার সকালে প্রায় ৫০ জন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা কালীঘাট থানায় হাজির হন। তাঁদের পক্ষ থেকে পাঁচ জনের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি পান। তাঁদের হাতে ছিল সাত দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়ির অফিস সেই স্মারকলিপি গ্রহণও করেছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পাননি তাঁরা, তবে আশা করছেন, এই আবেদন এবার গুরুত্ব পাবে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বক্তব্য, অবিলম্বে যেন প্রত্যেক চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে স্কুলে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে রাজ্য সরকার। তাঁদের অভিযোগ, অনেকেই নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে চাকরি ফিরে পেলেও কাজে যোগ দিতে পারছেন না। কেউ পুলিশ ভেরিফিকেশন পাস করেননি, কেউ আবার নথিপত্রে গোলমালের জেরে স্কুলে ফিরতে পারছেন না। সেই সমস্ত বাধা দূর করে, দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সকলকে ফের স্কুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক—এটাই তাঁদের মূল দাবি।
আরও পড়ুনঃ New Covid cases in India: আবার বাড়ছে করোনা সংক্রমণ! বাংলায় হানা, চিন্তায় স্বাস্থ্য দফতর!
এই ঘটনার পাশাপাশি, করণাময়ীর সেন্ট্রাল পার্কে এখনও চলছে অবস্থান বিক্ষোভ। কলকাতা হাইকোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের প্রতি যেন পুলিশ নমনীয় মনোভাব বজায় রাখে। কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ না করার নির্দেশও রয়েছে। এমনকি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে যে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল, সেটিও কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছে আদালত। অর্থাৎ, আইনি সুরক্ষা থাকলেও প্রশাসনিক সাড়া না পেলে সমস্যার সমাধান হবে না বলেই মনে করছেন চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাই এবার মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই তাঁদের একমাত্র ভরসা।





