আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে এবার সন্দীপ ঘোষের সদস্যপদ খারিজ করল পশ্চিমবঙ্গ অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন। এই সংগঠনের তরফে সন্দীপ ঘোষকে চিঠি দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি অমিয়কুমার বেরা।
পশ্চিমবঙ্গ অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞদের একটি সংগঠন। চিকিৎসকদের কল্যাণে ও পড়ুয়াদের পঠনপাঠনে বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে এই সংগঠন। সন্দীপ ঘোষকে পাঠানো চিঠিতে জানান হয়েছে। আর জি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে গত ১৬ আগস্ট বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গ অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। সেই বৈঠকেই নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
এই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের পড়ুয়া চিকিৎসক ও পিজিটিদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব অধ্যক্ষের। এই ঘটনায় তদন্ত করছে সিবিআই। যতদিন না পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও মীমাংসা হয়, ততদিন সন্দীপ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গ অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। কেন আর জি করে এমন ঘটনা ঘটল, তাও ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিয়ে জানাতে হবে সন্দীপ ঘোষকে, এমনটাই জানাল সংগঠন।
বলে রাখি, আর জি কর ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিবিআই। প্রথমে গত শুক্রবার সন্দীপ ঘোষকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। কিন্তু তিনি হাজিরা না দেওয়ায় তাঁকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যান সিবিআই আধিকারিকরা। এরপর গতকাল, শনিবারও জেরা করা হয় তাঁকে। দু’দিনে ২২ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সন্দীপ ঘোষকে। আজ, রবিবারও সিবিআইয়ের তলবে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আর জি করে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় পড়ুয়া চিকিৎসকদের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। চাপের মুখে পড়ে তিনি অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে এই ইস্তফা দেওয়ার ৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের তাঁকে বহাল করা হয় ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ করা হয় চিকিৎসকদের তরফে। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা উঠলে আদালত নির্দেশ দেয়, পরবর্তী কোনও নির্দেশ ছাড়া সন্দীপ ঘোষ কোনও জায়গায় কাজে যোগ দিতে পারবেন না।





