২০২৪ সালের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল আরজি কর (RG KAR) মহিলা ডাক্তারের হত্যাকান্ড এবং ধর্ষণ। এই নৃশংস ঘটনা গোটা কলকাতাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। একজন সেবিকা, যিনি তার জীবনের অধিকাংশ সময় মানুষদের সেবা করতে ব্যস্ত ছিলেন, তাকে হত্যা এবং ধর্ষণের শিকার হতে হয়, এমন ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মনকে স্পর্শ করেছিল। পুরো শহর ছিল শোকাহত এবং রেগে, তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষত মহিলা সংগঠনগুলি, প্রতিদিন রাস্তায় নেমে তীব্র আন্দোলন করেছিল। তাদের দাবি ছিল, “ন্যায়বিচার” এবং “শাস্তি”—শাস্তি যেন হয় দোষীদের, যেন আর কেউ এমন নিষ্ঠুরতা না ভোগ করে।
দীর্ঘ পাঁচ মাস এগারো দিন পর আজকে সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণা হয়েছে। সঞ্জয় রায় বারবার দাবি করেছে, সে দোষী নয়। তবে নির্যাতিতার বাবা-মা স্পষ্টই বলেছেন, সঞ্জয়ের পক্ষে একা এই কাজ করা সম্ভব নয়, এর সঙ্গে আরও বড় মাথারা জড়িত। সিবিআই-ও তদন্তে জানিয়েছিল, সঞ্জয় রায় এই ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ ফাঁসির দাবি জানিয়েছিল। আজকের সাজা ঘোষণা জনমানসে কিছুটা শান্তি এনে দিলেও প্রশ্ন উঠছে—বাকিরা কি ছাড় পেয়ে যাবে?
আরজি কর হাসপাতালের মহিলা ডাক্তারের ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল। শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অনির্বাণ দাস ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৩ ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এই রায়ে সঞ্জয় রায় ফাঁসির হাত থেকে বেঁচে গেলেও, তার বাকি জীবন কাটবে জেলের অন্ধকারে।
কলকাতা সহ গোটা দেশ এই রায়ের অপেক্ষায় ছিল, কারণ এই ঘটনা সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। রাজপথে ফাঁসির দাবিতে দিনরাত আন্দোলন করেছিল মানুষ। তবে সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি না হওয়ায় অনেকেই হতাশ। সাধারণ মানুষের ধারণা, এর পেছনে হয়তো আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে। এই ঘটনায় আরও বড় মাথারা জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছে অনেকে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে’, দাবি সঞ্জয়ের, আদৌ কি ন্যায়বিচার পাবে অভয়া? বিচারের পথে বড় চ্যালেঞ্জ
এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কিনা। সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণা হলেও, সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই নৃশংস অপরাধের নেপথ্যে আসল মাথারা কি ধরা পড়বে? কলকাতা সহ গোটা দেশ এখন দীর্ঘ অপেক্ষায় আছে, বিচার ব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা কি অটুট থাকবে নাকি নতুন করে প্রশ্ন উঠবে, সেটাই এখন দেখার।





